সৈয়দ আছলাম হোসেন এর কলাম-“ওরা করোনা যোদ্ধা”

ওরা করোনা যোদ্ধা
সৈয়দ আছলাম হোসেন

আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। এই স্বাধীনতা অর্জন করতে দেশের মানুষ শত্রুর সাথে যুদ্ধ করে অনেকে জীবন দিয়েছেন কেহ আহত হয়েছেন আবার কেহ জীবন দিয়েছেন। আবার কেহ শত্রুদেরে প্রকাশ্যে সহযোগিতা করে দেশের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। অবশেষে যখন দেশ স্বাধীন হল তখন স্বাধীন বা;লার ইতিহাসে কেহ শহীদ, কেহ মুক্তিযোদ্ধা, কেহ যুদ্ধাহত, কেহ বীরাঙ্গনা, কেহ রাজাকার ইত্যাদি খেতাব পেয়েছেন নিজের কর্মগুণে। ভাল কাজের ফল দেরিতে হলেও ভাল পাওয়া যায় আবার মন্দ কাজের ফল দেরীতে হলেও মন্দ হয়। আমাদের দেশের মুক্তিযুদ্ধ আমাদেরে গুরুত্বপূর্ণ এই শিক্ষা দিয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারনে যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে একেক জনের একেক রকম ভুমিকা থাকে। আমরা সবাই তা জানি।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে করোনা মহামারি শুরু হয়েছে সেটা ও এক প্রকার বেচে থাকার যুদ্ধ। এই যুদ্ধে প্রতিপক্ষ এক অদৃশ্য শক্তি। এই যুদ্ধে ও আজ বিশ্ববাসী মোকাবেলা করে কেহ বেচে থাকার সৃযোগ পাবেন আবার কেহ শহীদ হবেন। এই যুদ্ধে অস্র হাতে নিয়ে রাজপথে আসার যুদ্ধ নয়, এ যুদ্ধ নিরাপদে নিজের ঘরে থাকার যু্দ্ধ। আমরা সবাই এই যুদ্ধে বাচতে চাই কিন্তু সবাই তো বাচতে পারবনা। তাই আমি মনে করি যারা ডাক্তার, নার্স, মিডওয়াইফ, স্বাস্থকর্মী সহ বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী সেবামূলক স;স্থা গুরুত্বপূর্ণ সেবা মূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ওরা সবাই করোনা যোদ্ধা। যারা বিশ্ব স্বাস্থ্য স;স্থা (WHO) এর নির্দেশ মত ঘরে বসে নিজেকে ও নিজের পরিবারকে নিরাপদে রাখতে সাবান দিয়ে হাত ধৌত করেন তিনি ও করোনা যোদ্ধার সহযোগী। যারা আইনশৃ;খলা বাহিনী বা সরকারের বিভিন্ন নির্দেশ পালন করতে ঝুকি নিয়ে সদা কর্তব্যরত আছেন সবাই করোনা যোদ্ধা। এই দু:সময়ে যারা নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ঘরে ঘরে খাবার সামগ্রি পৌছে দিচ্ছেন সবাই হচ্ছেন করোনা যোদ্ধা। আর যারা এমন মহামারি কালে সরকারী বেসরকারী খাত থেকে বরাদ্ধকৃত চাল, ডাল, তেল, ঔষধ সহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি চুরি ও লুটপাটে ব্যন্থ ওরা হল করোনা যুদ্ধের রাজাকার। আমি ও এই করোনা যোদ্ধে স্বাস্থ্যসেবার জরুরী মেডিকেল টিমের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি। পাশাপাশি করোনা যুদ্ধের রাজাকার দের কর্ম দেখে ঘৃনা জানাচ্ছি। আসুন করোনা মহামারিতে আমরা যার যার অবস্থান থেকে সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে করোনা যুদ্ধে অ;শ নেই।

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি-সুবাস (এনজিও) সিলেট।

Share Button