জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে সার সরবরাহ ও বিতরণ নিয়ে সৃষ্ট সাময়িক অস্থিরতা কাটতে শুরু করেছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি ও কৃষি বিভাগের সমন্বিত তৎপরতায় অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে অভিযান, মজুত সার উদ্ধার এবং ডিলার পর্যায়ে তদারকি জোরদার করায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। এতে কৃষকদের উদ্বেগও কমেছে।
প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় সারের প্রকৃত কোনো সংকট নেই। অতিরিক্ত সার কেনা ও মজুদের প্রবণতা এবং গুজবের কারণে কোথাও কোথাও সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছিল। অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানাও করা হয়েছে।
সোমবার ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী ও রৌমারীর বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে কৃষকদের ভিড় দেখা যায়। রৌমারীতে একটি ডিলার পয়েন্টে প্রায় এক হাজার কৃষক সার নিতে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ৭৫০ বস্তা সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
ভূরুঙ্গামারীর বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের ব্রিজপাড় এলাকায় সার বিতরণের স্লিপ নিয়ে কয়েকজন কৃষক সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কুড়িগ্রামে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। আগাম ভুট্টা, আলু ও বেগুন চাষের জন্য কিছু কৃষক অতিরিক্ত সার কেনার চেষ্টা করায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছিল। কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ একযোগে কাজ করছে।
জেলা প্রশাসক অর্ণপূর্ণা দেবনাথ বলেন, গুজবে কান না দিয়ে কৃষকদের ধৈর্য ধরতে হবে। কোনো ডিলার বা ব্যবসায়ী নিয়মের বাইরে সার বিক্রি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অবৈধভাবে সার মজুত করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও সমন্বিত সার বিতরণের ফলে কুড়িগ্রামে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
