হাবিবুর রহমান, চিলমারী (কুড়িগ্রাম):
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে “প্রধান শিক্ষকের গাফিলতির কারণে, ম্যাধমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে পারলো না ১০শিক্ষার্থী” রবিবার (২৮শে ডিসেম্বর) সকালে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার, বাংলা বিষয়ের উপর অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষকের গাফিলতির কারণে “প্রবেশ পত্র না পাওয়ায় ১০জন শিক্ষার্থী জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে পারেনি” এ ঘটনায় শিক্ষক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানাগেছে, চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের “কয়ারপাড় বীরবিক্রম উচ্চ বিদ্যালয়ের” পরীক্ষার্থীরা জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে না পারায়, তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি। তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেনি। “কয়ারপাড় বীরবিক্রম উচ্চ বিদ্যালয়ের” অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিশাদ বাবু, মেহেদী হাসান, সুমাইয়া আক্তারসহ আরও অনেকে বলেন, আমরা অনেক দিন আগেই বৃত্তি পরীক্ষার ফিস জমা দিয়েছি। প্রধান শিক্ষক বাড়ি বাড়ি গিয়েও পরীক্ষার ফিস নিয়েছেন। এরপর থেকেই আমরা বৃত্তি পরীক্ষার আশায় ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে ছিলাম। কিন্তু আজ পরীক্ষার কেন্দ্রে যাওয়ার আগে শুনি, আমাদের প্রবেশপত্র এখনো আসেনি। তাই পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে পারিনি। এতে আমরা অনেকটাই নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েছি, এত দিনের পরীক্ষার প্রস্তুতি আমাদের সব বৃথায় চলে গেল বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে অভিভাবক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমার মেয়ের পরীক্ষার ফিস আমি নিজে গিয়ে দিয়েছি। আজ সকালে শুনলাম তাদের প্রবেশপত্র এখনো আসেনি। অনেক দিন থেকে শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতি নিচ্ছিল পরীক্ষার জন্য, কিন্তু প্রধান শিক্ষকের অবহেলার কারণে, আজ তারা পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে পারল না। এ বিষয়ে স্থানীয় আলামিন মিয়া বলেন, প্রধান শিক্ষক কাজটি সঠিক করেননি। এর কারণে শিক্ষার্থীরা তাদের মনোবল হারিয়ে ফেলবে।
এ বিষয়ে “কয়ারপাড় বীরবিক্রম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের” ব্যবহৃত মুঠোফোনে (০১৭১০-৭৭৪০০৯) কয়েকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব ও থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৈয়ব আলী বলেন, আজ ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৩২জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২২৪জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। কয়ারপাড় বীরবিক্রম উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণ খাওরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মুদাফৎ থানা এইচ সি উচ্চ বিদ্যালয়ের কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেনি। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য আগে ফরম ফিলাপ করতে হয়, এরা ফরম ফিলাপ করেছিল কিনা তা আমার জানা নেই বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেন তিনি।
