মোঃ রাফিউল ইসলাম (রাব্বি), স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় বিষমুক্ত নজর কাড়া বিটি বেগুন চাষে কৃষকের অভাবনীয় সফলতা অর্জন । কম খরচে অধিক ফলন ও লাভ জনক হওয়ায় অনেক চাষী বিটি বেগুন চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছে। উপজেলার হারাগাছের নাজিরদহ কুটিরঘাট গ্রামের কৃষক এনতাজুলের বিটি বেগুন ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায় এ অবাক করা সাফল্যে। তার ক্ষেতের এক একটি বেগুন ১ কেজি পর্যন্ত ওজনের হয়েছে। এনতাজুল জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজস্ব খাতের প্রদর্শনী হিসেবে তাকে ৩৩ শতক জমিতে বিটি বেগুন-২ ও বিটি বেগুন-৪ জাতের চারা ও সেই সাথে সার ও অন্যান্য কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়। উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তফার সার্বক্ষণিক তদারকি, ও পরামর্শক্রমে বেগুন চাষে সফলতা অর্জনে প্রচন্ড ভাবে সহযোগিতা করেছে। বিটি বেগুন ২ ও ৪ জাত ক্ষেতে লাগানোর উপযুক্ত সময় সেপ্টম্বর-অক্টবর মাস। এক বিঘা জমিতে আড়াই হাজার চারা চাষাবাদ খরচ সহ বিঘাপ্রতি ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি শতকে পুরা মৌসুমে ১৬০ কেজি থেকে ২শ’ কেজি বেগুন উৎপাদিত হবে। সে অনুপাতে ৪ মাসে বেগুন বিক্রির লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রতি মণ বিটি বেগুন ৬০০ থেকে সাড়ে ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিটি ২ ও বিটি ৪ জাতের বেগুন ক্ষেতে কোন প্রকার কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। এজাতের বেগুনে ফল ও ডাল ছিদ্রকারী পোকা বেগুন নষ্ট করতে পারে না, তাই এই বেগুন চাষে অনেক কৃষক দিন দিন আগ্রহ প্রকাশ করছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান নতুন জাতের এ বিটি বেগুন প্রথমে কেহই চাষ করতে চায় নি। বর্তমানে ফলন ও দাম ভাল পাওয়ায় কৃষক বেগুন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। এই বেগুন খেতে যেমন সুস্বাদু এবং এতে পোকা-মাকড়ের তেমন আক্রমণ দেখা যায় না। বিটি বেগুন চাষ বেশ লাভ জনক বলে তিনি মনে করেন।
