স্টাফ রিপোর্টার:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী সেন্ট্রাল ক্লিনিকে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ৬ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে অবশেষে ক্লিনিক বন্ধ করে দিলেন কর্তৃপক্ষ। তবে ডায়াগনস্টিক বিভাগের কার্যক্রম চলবে। রোববার দুপুরে রোগীর স্বজনের বাড়িতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের উপস্থিতিতে রফাদফা হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরে সন্ধ্যায় ক্লিনিক বিভাগ বন্ধের নোটিশ দেয় ক্লিনিক কর্পক্ষ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নাগেশ্বরী সেন্ট্রাল ক্লিনিকে উপজেলার বেরুবাড়ী ইউনিয়নের ফারাসপুরা গ্রামের আলমগীর হোসেনের স্ত্রী মিষ্টি খাতুন নামে এক নারীর সিজারিয়ান অপারেশন করা হয় ২২ দিন আগে। সিজারিয়ান অপারেশন করেন ডা. আমজাদ হোসেন। দুই দিন পরে ওই প্রসূতি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, প্রাইম হসপিটালে পরীক্ষা নীরিক্ষার পর তাদের জানানো হয় সিজারিয়ান অপারেশন ভালোভাবে সম্পন্ন না করেই সেলাই করা হয়েছে। অর্থাৎ কাটাস্থানে ময়লা রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ করা হয়। ওই প্রসূতির দিনে দিনে অবস্থার অবনতি হয়। এক পর্যায়ে শনিবার বিকেলে রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রসূতি মারা যায়। এ ঘটনায় রোববার সকাল ১০টার দিকে রোগীর স্বজনরা এসে নাগেশ্বরী সেন্ট্রাল ক্লিনিকের বাইরে ভাংচুর করে। দিনভর এ ঘটনা নিয়ে নানা আলোচনার পর বিকেলে ৬ লাখ টাকা রোগীর স্বজনদের দেয়ার শর্তে রফাদফা হয়। এ বিষয়ে মৃত্যু মিষ্টি খাতুনের স্বামী আলমগীর হোসেনের সাথে মোবইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বেরুবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান সোলায়মান আলী বলেন, আলোচনায় জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজাসহ অনেকে বৈঠকে ছিলেন। ৬ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে বলে শুনেছি। তিনি বলেন, রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন মহিলা মানুষ। অভিযোগ করলে তাকে নিয়ে আরও নারাচাড়া হবে এ কারণে তারা অভিযোগ করতে চাননি। নাগেশ্বরী সেন্ট্রাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আখের আলী বলেন, ওই রোগীর সিজারিয়ানে কোন ত্রুটি ছিলনা। সিজারের পরে রংপুরে রোগীর জরায়ু অপারেশন করা হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। তারপরে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়। কিন্তু রোগীর লোকজন আমাদের ক্লিনিকে ভাংচুর চালায়। পরে তিন লাখ টাকা রোগীর স্বজনকে দিয়ে মীমাংশা করা হয়েছে এবং আজ থেকে ক্লিনিকের সকল অপারেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্ক্রম চলবে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজা বলেন, আমি রোগীর বাড়িতে গিয়ে বলে এসেছি অভিযোগ দেন। পরপর রোগী মারা যাবে বিষয়টি মেনে নেয়া যায়না। রফাদফার বিষয়ে বলেন, ৬ লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। তবে এ সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। জামায়াতের আমীর হামিদ ভাই ছিল তিনি ভালো জানেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা আব্দুল হামিদের মুঠোফানে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
