ব্যবসায় শিক্ষা পিছিয়ে পড়ার কারণ থেকে উত্তরনের উপায় : মো. খায়রুল আলম

ব্যবসায় শিক্ষা পিছিয়ে পড়ার কারণ থেকে উত্তরনের উপায়

-মো. খায়রুল আলম

শিক্ষা হলো মানুষের জীবনে পথ অতিক্রমের চালিকা শক্তি। শিক্ষা ব্যতিত কোন জাতি উন্নয়নের চুড়ায় কোন ক্রমেই পৌঁছাতে পারবে না। সেই শিক্ষা যদি সমসাময়িক না হয় তাহলে দক্ষ জনশক্তি বলেন উন্নয়নশীল দেশ বলেন উন্নত দেশে বলেন কোনটাই সঠিক বলে বিবেচিত হবে না। যে দেশ শিক্ষায় যত উন্নত সে দেশ ততই দ্রুততার সাথে শত প্রতিকুলতার বাধা অতিক্রম করে উন্নয়নের দিকে ধাবিত হবেই। ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে অনেক দৃষ্টান্ত মুলক উদাহরণ পরিলক্ষিত হয়। শিক্ষার উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে নজর রাখতেই প্রথমেই চোখে ভেসে ওঠে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ক্রমহ্রাসমান উপযোগের গতিধারা। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ যেভাবে নিচের দিকে ধাবিত হচ্ছে আর হয়তো কয়েক বছরের মধ্যেই খুঁজেই পাওয়া যাবে না। এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকলেই ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের অবস্থান কি হতে পারে তা প্রশ্নবিদ্ধ।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ শিক্ষার্থীদের মাঝে শুধু শিক্ষাই প্রসার ঘটায় না বরং শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মকর্মসংস্থানের দিয়ে ধাবিত করার প্রয়াস চালায়। বাংলাদেশের জনসংখ্যা যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই তুলনায় কর্মসংস্থান অপ্রতুল, এই জনসংখ্যাকে দেশের জন সম্পদে পরিণত করার জন্য ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ অনেকটা অবদান রাখতে পারে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। কারণ ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ দেশের বেকারত্বদের মাঝে নিজ নিজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির উৎস হাতে কলমে প্রাকটিক্যাল ভাবে চোখে দেখায়ে দেয়। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগকে ব্যতিরেকে দেশের সার্বিক উন্নয়ন কোন ক্রমেই সম্ভব নয় বলে বিবেচিত।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এ দেশের সরকারি বলেন বেসরকারি বলেন কোন সেক্টরই কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছে না। বিধান ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ অনেকটা বিলিনের মুখোমুখি। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগকে পুনরায় উজ্জীবিত করার জন্য সরকার কর্তৃক দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করার পাশাপাশি দেশের জনসাধারণকেও এগিয়ে আসতে হবে তার সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল সহকারী শিক্ষক বিশেষ করে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদেক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে হবে।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগকে পুনরায় উজ্জীবিত করার জন্য নিম্ন বর্নিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ বলে বিবেচিত।
১। দেশের প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলাম সংশোধন করতে হবে।
২। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষকদেক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও দক্ষ শিক্ষক হিসেবে তৈরি করতে হবে।
৩। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে অভিভাবকদের নিয়ে সেমিনারের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪। শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে আলাদা কর্মশালার ব্যবস্থা করতে হবে।
৫। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে কোঠা সংরক্ষণ করতে হবে।
৬। বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
৭। শ্রেণি কক্ষে প্রয়োজনে পুরস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে।
৮। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে আত্মকর্মসংস্থান মুলক ক্ষেত্র সমুহ পরিদর্শনের সুব্যবস্থা করতে হবে।
৯। শিক্ষার্থীদেরকে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।
১০। শিক্ষা অফিস কর্তৃক নিয়মিত পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের সমস্যা সমাধানের জন্য বাস্তবভিত্তিক ও জ্ঞান ভিত্তিক পরিকল্পনা, ব্যাপক কারিগরি প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা তৈরী ও বিনিয়োগে সহায়তা, সমসাময়িক পাঠ্যক্রম প্রণয়ন জরুরি, যা শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরি নয় এক একজন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করবে, যেমন – ব্যবহারিক জ্ঞানের অভাব, বাস্তবতার সাথে পাঠ্যক্রমের অসামঞ্জস্যতা, এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়ক হবে।

লেখক:

সহকারী শিক্ষক: গাগলা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়
ডাকঘর: গাগলা, উপজেলা: নাগেশ্বরী, জেলা: কুড়িগ্রাম।
মোবাইল: ০১৭২৬৫৪৫৮২৯

Share Button