সুমন চক্রবর্তীঃ
বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হলুদ সাংবাদিকতা। সাংবাদিকতা বা সাংবাদিক সমাজের কথা উঠলেই সবার আগে উঠে আসছে হলুদ সাংবাদিকতা। এর প্রধান কারন হচ্ছে সাংবাদিকতা পেশায় কিছু দালাল ও বাটপার ঢুকে পড়েছে। তারা এই পেশাকে কলুষিত করছে। মুলত এই সকল ব্যক্তির জন্য হলুদ সাংবাদিকতা কথাটা বার বার সামনে আসছে। এ কথা ঠিক সোনায় যেমন খাদ থাকে, তেমনি সাংবাদিকতা পেশাতেও রয়েছে অপসাংবাদিকতা।
সাংবাদিকতার বিপরীত হচ্ছে হলুদ সাংবাদিকতা। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, বিশ্বের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সাংবাদিক বলে যাকে মানা হয়, সেই “জোসেফ পুলিৎজার”ই হলুদ সাংবাদিকতার জনক।
উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, “হলুদ সাংবাদিকতা” বলতে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন রোমাঞ্চকর সংবাদ পরিবেশন বা উপস্থাপনকে বোঝায়। এ ধরনের সাংবাতিকতায় ভালমতো গবেষণা বা খোঁজ-খবর না করেই দৃষ্টিগ্রাহী ও নজরকাড়া শিরোনাম দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা হয়। হলুদ সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য হল সাংবাদিকতার রীতিনীতি না মেনে যেভাবেই হোক পত্রিকার কাটতি বাড়ানো বা টেলিভিশন চ্যানেলের দর্শকসংখ্যা বাড়ানো। অর্থাৎ হলুদ সাংবাদিকতা মানেই ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন, দৃষ্টি আকৰ্ষণকারী শিরোনাম ব্যবহার করা, সাধারণ ঘটনাকে একটি সাংঘাতিক ঘটনা বলে প্ৰতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা, কেলেংকারির খবর গুরুত্ব সহকারে প্ৰচার করা, অহেতুক চমক সৃষ্টি ইত্যাদি।
ফ্র্যাঙ্ক লুথার মট “হলুদ সাংবাদিকতা”র পাঁচটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেনঃ
সাধারণ ঘটনাকে কয়েকটি কলাম জুড়ে বড় আকারের ভয়ানক একটি শিরোনাম করা।
ছবি আর কাল্পনিক নক্সার অপরিমিত ব্যবহার।
ভুয়া সাক্ষাৎকার, ভুল ধারণার জন্ম দিতে পারে এমন শিরোনাম, ভুয়া বিজ্ঞানমূলক রচনা আর তথাকথিত বিশেষজ্ঞ কর্তৃক ভুল শিক্ষামূলক রচনার ব্যবহার।
সম্পূৰ্ণ রঙিন রবিবাসরীয় সাময়িকী প্রকাশ, যার সাথে সাধারণত কমিক্স সংযুক্ত করা হয়।
স্রোতের বিপরীতে সাঁতরানো পরাজিত নায়কদের প্ৰতি নাটকীয় সহানুভূতি।
উপরের উল্লেখিত ফ্র্যাঙ্ক লুথার মট “হলুদ সাংবাদিকতা”র পাঁচটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন সেগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, হলুদ সাংবাদিকতা মানে বাড়তি কিছু যোগ করা, কাল্পনিক কিছু যোগ করা, অপরিমিত ছবি ও নক্সার ব্যবহার এবং যেটা আদৌ সম্ভব না তেমন কিছু সংবাদের মাধ্যমে সম্ভব করার ব্যর্থ চেষ্টা।
বর্তমান সময়ে হলুদ সাংবাদিকতা তৈরি হচ্ছে আবার রাজনৈতিক নেতাদের কারনে। তারা অনেকেই সাংবাদিকতায় আসছেন। আবার অনেকে সাংবাদিকতা নিয়ন্ত্রন করছেন। এরপর আবার নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন প্রকার ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করাচ্ছেন। এর বাইরে আবার কিছু সাংবাদিক নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য হলুদ সাংবাদিকতা করছেন। আবার এখন যারা সাংবাদিকতা করছেন বা সাংবাদিকতায় আসছেন অধিকাংশ লোকের আবার সাংবাদিকতা সম্পর্কে তেমন কোন জ্ঞান নাই। তারা অনেকেই বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও হলুদ সাংবাদিকতা কি বা এর পার্থক্য কি তা জানে না। সেজন্যও হলুদ সাংবাদিকতা তৈরি হচ্ছে।
পরিশেষে, হলুদ সাংবাদিকতা বলতে যে বলা যায় সেটা হলো হলুদ সাংবাদিকতা মানেই মনগড়া সংবাদ, এই সংবাদের কোন ভিত্তি নাই। যেটা সাংবাদিকরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বা পত্রিকার কাটতি বাড়ানো বা টেলিভিশন চ্যানেলের দর্শকসংখ্যা বাড়ানো জন্য করে থাকে। কিন্তু এর জন্য প্রাথমিক অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্থ হয় যাকে বা যাদের ঘিরে এই সংবাদ তৈরি করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যায়ে গিয়ে ঐ সাংবাদিক, পত্রিকা বা চ্যানেলই ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে।
