সুমন চক্রবর্তী,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
প্রিয় যশোরের মনিরামপুর জনপ্রতিনিধিগণ, আপনারা সকলে জানেন আমাদের মনিরামপুর উপজেলা ঐতিহ্য খেজুর ও খেজুরের রসের গুড়। হয়তো আমি নিজ এলাকায় বসবাস করলে বুঝতে পারতাম না আসলে আমাদের মনিরামপুর এলাকার খেজুরের রসের গুড় কতটা জনপ্রিয় ও বিখ্যাত রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে।
কিন্তু অতিব দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে আমাদের যশোরের মনিরামপুরে খেজুর রসের তৈরি বিখ্যাত ‘নলেন গুড়’-এর উৎপাদন এখন আগের মতো হয় না । খেজুরের রস বা গুড়ের জন্য বিখ্যাত যশোর জেলা। এরই একটি বৃহৎ অংশ মনিরামপুর উপজেলার। কিন্তু দিন দিন খেজুর গাছের স্বল্পতার কারণে ও গুড় তৈরীর জ্বালানির অভাবে ও দক্ষ গাছি না থাকাসহ বিভিন্ন প্রতিকূলতার জন্য বিখ্যাত গুড় আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে।
গুড়, পাটালি ও ঝোলা গুড়ের জন্য সবচেয়ে খ্যাতি উপজেলার ইউনিয়ন রোহিতা, কাশিমনগর, ভোজগাতি, ঢাকুরিয়া, মনিরামপুর সদর, খেদাপাড়া,ঝাপা,মশ্বিমনগর, শ্যামকুড়,দূর্বাডাংগা,কুটিয়া, নেহালপুর,হরিদাসকাটি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম। জানা যায়, দেশসেরা খেজুরের গুড় তৈরিতে উন্নত জাতের খেজুর রস ব্যবহার করা হয়, যাকে নলেন রস বলে থাকে। এ নলেন গুড় থেকে তৈরি হয় নলেন গুড়ের সন্দেশ, ক্ষীর ও পায়েস। এসব এলাকায় বিস্তৃত জমি জুড়ে থাকা সারি সারি খেজুর গাছ প্রস্তুত করতেন গাছিরা রস আহরণের জন্য। অথচ সেই গাছ, রস ও গুড়ের খ্যাতি ও গাছিদের ব্যস্ততা সবই আজ বিলীন হওয়ার পথে।
উপজেলার পৌর শহরের দূর্গাপুর গ্রামের কৃষক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে আমাদের ২০০টির বেশি খেজুর গাছ ছিল। এখন আছে মাত্র ৬০টি মত গাছ আছে। কৃষক মহিবুল্লা বলেন তাদের আগে ১৫০টির বেশি গাছ ছিল। এখন সেখানে মাত্র ৬০-৭০টির মতো আছে। তাও সব গাছ তোলা হয় না। শীতের সময়টা নলেন পাটালি বানিয়ে বিক্রি করি। বাজারে যেতে হয় না, বাড়িতে এসে লোকজন বসে থাকে, গুড় বানানো হলে নিয়ে যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, মনিরামপুরের গুড়ের যে সুখ্যাতি রয়েছে তাতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি করা হলে এ গুড় থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। এ উপজেলায় বর্তমানে প্রায় দেড় লাখের উদ্ধে খেজুর গাছ রয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ১লাখের মত গাছ থেকে শীতের মৌসুমে রস আহরণ করা হয়। তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে সরকার দেশে তাল-খেজুর গাছ সংরক্ষণে প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের অধীনে সরকারি রাস্তার পাশে ইতিমধ্যে প্রতিবছর প্রায় ১ হাজার গাছ লাগানো হয়।
উপজেলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই নজপদে সংসাদ সদস্য,চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মেম্বার, মহিলা মেম্বার সহ মোট ২৩৯ জন জনপ্রতিনিধি রয়েছেন।তাঁদের প্রত্যেকে যদি প্রতি মৌসুমে সর্বনিন্ম ১০টি করেও খেজুরের চারা গাছ সংরক্ষণ করে পতিত, সরকারী,বেসরকারী, নিজের অথবা রাস্তার দুই ধার দিয়ে তাহলে প্রতি বছর ২৩৯০টি করে খেজুরের গাছ সংরক্ষণ হবে। এই ভাবে যদি কোন জনপ্রতিনিধি তার ৫ বছরের মেয়াদ কালে খেজুর গাছ সংরক্ষণ করতে পারে তাহলে এক জন জনপ্রতিনিধি মোট ৫০ গাছ সংরক্ষণ করলে উপজেলাতে মোট খেজুরের গাছ সংরক্ষণ হবে ১,১৯,৫০০টি। প্রিয় জনপ্রতিনিধি মাত্র ৫টি বছর আপনাদের সামান্য অবদান ও পরিশ্রমে আমরা ফিরে পেতে পারি আমাদের প্রায় বিলুপ্তি সম্পাদ খেজুরের গাছ,রস ও গুড়।
তাই বিষয় টি আগামী আসন্ন বর্ষার মৌসুমে বিবেচনায় আনার আকুল মিনতি রইল আপনাদের কাছে।হয়তো ৫বছর পরে আপনি আর জনপ্রতিনিধি নাও হতে পারেন। তখন দেখবেন ক্ষমতা না থাকলে কেউ আপনাকে সালামও দিবেনা। কিন্তু আপনার রেখে যাওয়া গাছ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে আজীবন।
মোঃ শাহ্ জালাল
(ঢাকা থেকে)
