জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা:
একসময় যে দুধকুমার নদী ছিল ভাঙন, ক্ষয় আর অনিশ্চয়তার প্রতীক—আজ সেই নদীর বুকেই ফুটে উঠেছে সম্ভাবনার নতুন মানচিত্র। প্রকৃতির নির্মমতা পেরিয়ে মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রমে দুধকুমারের বুকে জেগে ওঠা চরগুলো এখন পরিণত হয়েছে সবুজে মোড়া উর্বর কৃষিভূমিতে। বিশেষ করে ভুরুঙ্গামারীর তিলাই ইউনিয়নের চরাঞ্চলে এই পরিবর্তন যেন এক অনন্য পুনর্জাগরণের গল্প, যা বদলে দিচ্ছে শত শত কৃষকের জীবন-বাস্তবতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীর বুকে জেগে ওঠা নতুন চরগুলো একসময় ছিল অনাবাদি বালুচর। কোনো ফসল হতো না, ছিল না বসবাসের উপযোগিতা। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে কৃষকদের নিরলস পরিশ্রম, সাহস আর উদ্যোগে সেই বিরানভূমি এখন পরিণত হয়েছে সোনালী ফসলের মাঠে। ভুট্টা, শাকসবজি ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের আবাদে এখন সরগরম পুরো এলাকা।
চরের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অতীতে নদীভাঙনের কারণে তাদের অনেকেই বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন। জীবন ছিল অনিশ্চয়তায় ঘেরা। কিন্তু নতুন চর জেগে ওঠার পর তারা আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে ভুট্টা চাষে ভালো ফলন ও বাজারমূল্য পাওয়ায় তাদের আয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
একজন কৃষক বলেন, “আগে সংসার চালানোই ছিল কষ্টকর। এখন চরে চাষাবাদ করে ভালো আয় হচ্ছে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়াও ঠিকমতো করাতে পারছি।”
কৃষি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, সেচ সুবিধা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এসব চরাঞ্চল দেশের খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম। পাশাপাশি কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা গেলে এই সম্ভাবনা আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
দক্ষিণ তিলাই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি আবুল কালাম বলেন, চরাঞ্চলে টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সড়ক, সেচ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন। অপরদিকে তিলাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ উল্লেখ করেন, সরকারের সুদৃষ্টি ও সহায়তা পেলে এই চরাঞ্চল হতে পারে দেশের অন্যতম কৃষি উৎপাদন কেন্দ্র।
দুধকুমারের বুকজুড়ে জেগে ওঠা এই সবুজ কেবল ফসলের গল্প নয়—এটি সংগ্রাম, ঘুরে দাঁড়ানো আর জীবনের নতুন আশার প্রতিচ্ছবি। তিলাই ইউনিয়নের এই রূপান্তর প্রমাণ করে, সঠিক সুযোগ ও সহায়তা পেলে দেশের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলও হতে পারে সমৃদ্ধির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
