ধরলার ভাঙন ও অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

ধরলা নদীর ভয়াল ভাঙন আর অবৈধ বালু উত্তোলনের দৌরাত্ম্যে দিশেহারা হয়ে উঠেছে কুড়িগ্রাম সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের চর বড়াইবাড়ি এলাকার মানুষ। বসতভিটা ও আবাদি জমি রক্ষার তীব্র আশঙ্কা থেকে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ। এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে নদীর পাড় এলাকায় মানববন্ধন করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও দ্রুত নতুন বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানান এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম, ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল গণি মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, নদীর ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড খননকাজ পরিচালনা করলেও খননকৃত বালু স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ করে ভাঙনপ্রবণ এলাকা রক্ষার পরিবর্তে একটি প্রভাবশালী চক্র সেটিকে ‘বালুমহল’ ঘোষণা করে বিক্রির পাঁয়তারা করছে। এতে করে একদিকে যেমন ভাঙন রোধের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল গণি মিয়া বলেন, নদী রক্ষার নামে খননকৃত বালু যদি বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হয়, তবে তা জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করে অবৈধ বালু বিক্রি বন্ধ করতে হবে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তাদের প্রধান দাবি—ধরলা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান হিসেবে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং অবৈধ বালু উত্তোলন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে আরও বহু ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি, যা এলাকায় মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটকে আরও তীব্র করে তুলবে।

Share Button