কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
বিয়ের আনন্দঘন আয়োজনের মধ্যেও উঠে এলো হাদি হত্যার বিচারের দাবি। প্রচলিত বিয়ের গেটের হাসি-ঠাট্টা, গেট ফি কিংবা দরকষাকষির বদলে ন্যায়বিচারের আহ্বানে মুখর হয়ে উঠল একটি বিয়ের অনুষ্ঠান। ব্যতিক্রমী এই প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে বিয়ের গেটেই হাদি হত্যার বিচার দাবি করেছেন বরপক্ষ। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
জানা যায়, গ্লোবাল টেলিভিশনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ও রিপোর্টার জাকির হোসেনের সঙ্গে ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাটেশ্বরী এলাকার নুসরাত জাহান নীলার বিয়ে সম্পন্ন হয়। নির্ধারিত সময়ে বরযাত্রীরা কনের বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে দেখা যায় এক ভিন্ন দৃশ্য।
প্রচলিত বিয়ের গেটের আনন্দ-উল্লাসের পরিবর্তে বরযাত্রীদের হাতে ছিল হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে লেখা প্ল্যাকার্ড। প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল- ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’ এবং ‘Justice for Hadi’।
কৃষক নেতা জুয়েল বলেন, বিয়ে মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি। সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত থেকেই অন্যায় ও অনিশ্চিত মৃত্যুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এটি নবদম্পতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুশৃঙ্খল, ন্যায়ভিত্তিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ।
বরযাত্রী কল্লোল রায় বলেন, হাদি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ছিলেন। তাকে হারিয়ে দেশ অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। এই হত্যার বিচার না হলে ভবিষ্যতে আর নতুন হাদি তৈরি হবে না। এই উপলব্ধি থেকেই বন্ধুর বিয়েতে আমরা এই প্রতিবাদ জানিয়েছি।
এ বিষয়ে বর জাকির হোসেন বলেন, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে নতুন এক চেতনা তৈরি করেছে। সেই অভ্যুত্থানের অন্যতম অগ্রনায়ক শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু এখনো তার হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়নি।
তিনি আরও বলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই দিনে দাঁড়িয়ে আমি ন্যায়বিচারের দাবি জানাতে চেয়েছি। ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশে হাদি ভাইয়ের হত্যার বিচার যেন জনগণ দেখতে পায়। এই প্রত্যাশাই আমাদের।
বিয়ের মতো ব্যক্তিগত ও আনন্দঘন আয়োজনে এমন প্রতিবাদ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই উদ্যোগ সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
