কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলা রক্ষা বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে মুহূর্তের মধ্যে উপজেলা শহরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। গতকাল ভোর ৫টার সময় রৌমারী উপজেলা রক্ষা বেড়িবাঁধের কাঠালবাড়ী নামক স্থানে ভেঙ্গে দুপুর ১২টার মধ্যেই রৌমারীউপজেলা অফিস আদালত, রৌমারী হাট-বাজারসহ গ্রামগঞ্জে বন্যার পানি প্রবেশ করে। এছাড়াও রাজিবপুর উপজেলা অফিস আদালত রাজিবপুর হাট-বাজার বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এ দিকে ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ১২৫সে.মিটার বিপাদ সীমার উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় রৌমারী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ১৭২টি গ্রামে প্রায় ১লক্ষ ৭৫হাজার ও রাজিবপুর উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ৬৭টি গ্রামের প্রায় ৭৫হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দু’উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ আছে।
রৌমারী বাজারের ব্যবসায়ী মো: কফিল উদ্দিন বলেন হঠাৎ করে রৌমারী রক্ষা বেড়িবাঁধ, দাঁতভাঙ্গা হাজিরহাট রেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যায় ও ভারতের পাহাড়ি ঢলের পানি একযোগে দূরুত গতিতে রৌমারী বাজারে বন্যার পানি প্রবেশ।
সিএসডিকে এনজিও নির্বাহী পরিচালক মো: আবু হানিফ মাস্টার বলেন, গত ১ সাপ্তাহ থেকে অব্যাহত বৃষ্টি ও বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ২৩৯টি গ্রামের প্রায় আড়াই লক্ষ মানুয় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দুই উপজেলায় পানিবন্দি মানুষের বিশুদ্ধপানি, শুকনা খাবারসহ গোবাদিপশু ও হাঁস মুরগি,গৃহপালিত পশুপাখির খাদ্য সংকটে পড়েছে।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপঙ্কর রায় বলেন রৌমারী উপজেলা রক্ষা বেঁড়িবাধঁটি মাটি ভর্তি বস্তা ফেলে রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বাধঁটি ভেঙ্গে যায়। উপজেলা শহরসহ ৬টি ইউনিয়নে প্রায় নব্বই ভাগ মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। ৬টি ইউনিয়নের পানিবন্দি দরিদ্র পরিবারের মাঝে চাউল, শুকনা খাবার বিতরণের কাজ অব্যাহত আছে। খাদ্য সংকট অনুসারের বরাদ্দ সীমিত হওয়ায় সকল পরিবারের মাঝে সরবারহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
