জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সকল প্রকার অরাজকতা ও দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলো। গতকাল শনিবার বিকাল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা ছয় টা পর্যন্ত রাজারহাটের তালতলা সর্বজনীন দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে পুজা উদযাপন ফ্রন্ট – হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় পূজা মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে জোরদার প্রস্তুতি ও সমন্বিত পদক্ষপের ঘোষণা দেন তারা।
উপজেলার ১২৩টি পূজা মণ্ডপের কমিটির নেতৃবৃন্দ, প্রশাসন, বিএনপি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তারা বলেন ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনায় সর্বজনীন এ উৎসব যাতে কোনো রকম বিঘ্ন ছাড়াই সম্পন্ন হয়, সেজন্য সকলেই সজাগ থাকবেন।
আলোচনা সভার স্থলে হঠাৎ উপস্থিত – রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, “পূজা চলাকালীন সময়ে কোনো দুষ্কৃতকারীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই দেশ সকলের, ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রেখেই পূজা উদযাপন হবে। কাউকে সন্দেহজনক মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে ট্রিপল লাইনে ফোন করে প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। প্রশাসন সর্বদাই প্রস্তুত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মুস্তাফিজার রহমান (মোস্তফা) বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “প্রতিটি পূজা মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবক টিম প্রদান এবং সনাতনী ভাই-বোনদের জন্য পূজা সুন্দরভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। আমরা সর্বদা প্রস্তুত, কোন অরাজকতা হতে দেওয়া হবে না। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সনাতনীদের পাশে আছে, থাকবে।”
অনুষ্ঠানে আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ সদস্য সচিব জেলা বিএনপি কুড়িগ্রাম, উপস্থিত সকলের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “আজ এখানে আপনাদেরকে কথা দিয়ে গেলাম, কোন প্রকারভাবে সনাতনী ভাইদের অনুভূতিতে আঘাত সহ্য করা হবে না। কোনো দুষ্কৃতকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে যে টিম গঠন করা হয়েছে, তারা সকল মন্দির কমিটির সাথে নির্বিঘ্নে কাজ করবে। আমরা আপনাদের ভালোবাসা দিয়ে মন জয় করতে চাই। পূজার সময় কোনো সমস্যা দেখা দিলে জরুরি ফোন করলেই আমরা ছুটে আসব।”
শ্রী সুভাষ সরকার, আহ্বায়ক, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট কুড়িগ্রাম জেলা এবং পিযুষ কুমার রায়, আহ্বায়ক, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কুড়িগ্রাম জেলাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দও তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এসময়ে উক্ত অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন,
হাসিবুর রহমান হাসিব, যুগ্ন-আহবায়ক জেলা বিএনপি কুড়িগ্রাম। শাহীন শেখ রনজু, সদস্য কুড়িগ্রাম বিএনপি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কুড়িগ্রাম জেলা চেম্বার অফ কমার্স। জামিল আহমেদ, সদস্য কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির।
অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত (আহবায়ক) উপজেলা বিএনপি রাজারহাট কুড়িগ্রাম। শহিদুল ইসলাম- সদস্য সচিব, উপজেলা বিএনপি রাজারহাট, কুড়িগ্রাম। আব্দুর রাজ্জাক রাজ যুগ্ন আহ্বায়ক উপজেলা বিএনপি রাজারহাট কুড়িগ্রাম, শহিদুল ইসলাম বেপারী, প্যানেল চেয়ারম্যান ৩ নং ইউনিয়ন ও যুগ্ন-আহবায়ক উপজেলা বিএনপি রাজারহাট,
মাহামুদুল হাসান আল-মারজান, যুগ্ন আহবায়ক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ঢাকা। রুবেল পাটোয়ারী , আহ্বায়ক- ছাত্রদল, রাজারহাট উপজেলা, আলমগীর হোসেন সদস্য সচিব, কৃষকদল রাজাবফুট উপজেলা) আনিচুর রহমান (লিটন) আহ্বায়ক , সেচ্ছাসেবক দল রাজারহাট উপজেলা, আব্দুল কুদ্দুস, আহ্বায়ক – যুবদল রাজারহাট, নয়ন আলী -সদস্য সচিব, যুবদল, রাজারহাট উপজেলা, মকবুল হোসেন (প্রধান শিক্ষক, তালতলা সরঃ প্রাঃ বিদ্যাঃ, স্বর্ণ কমল মিশ্র:- সরকারি অধ্যাপক ও পুরোহিত প্রশিক্ষক কুড়িগ্রাম জেলা। নিতাই চন্দ্র রায়, আহ্বায়ক – বাংলাদেশ পুজা উদযাপন ফ্রন্ট,রাজারহাট উপজেলার, সুশীল চন্দ্র সরকার আহ্বায়ক- হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট রাজার হাট উপজেলা, সুজন কুমার রায় – সদস্য সচিব -হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট রাজারহাট উপজেলা, প্রদীপ রায়, সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক পূজা উদযাপন ফ্রন্ট রাজারহাট উপজেলা, পল্লব রায়, সুমন রায়, জনার্দন সরকার শুভ, জয়ন্ত রায়, নিমাই চন্দ্র রায়, নাড়ুগোপাল শ্যামল, কিশোর কুমার রায় প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন রাজারহাট শিশু নিকেতনের প্রধান শিক্ষক শ্রী প্রভাত চন্দ্র রায়। অনুষ্ঠানের শুরুতে শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ করেন শ্রী অনিল রায়। সদস্য সচিব, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট রাজারহাট উপজেলা, শ্রী রতন কুমার রায়ের সঞ্চালনায় এতে জেলা ও উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, ছাত্রদল, যুবদল, সেচ্ছাসেবক দল, কৃষকদলের পক্ষ থেকে শতাধিক নেতা এবং এলাকার সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
