স্টাফ রিপোর্টারঃ
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলায় নিহত বাংলাদেশি ড. আব্দুস সামাদের গ্রামের বাড়িতে তার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও কুলখানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৮ জুন শনিবার ড. আব্দুস সামাদের পিতৃভূমি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার মধুরহাইল্যা নামক গ্রামের বাড়িতে এই দোয়া ও কুলখানি হয়।
তার আগে বাড়ি সংলগ্ন মসজিদে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত করেন মুসল্লিরা। এ সময় তার বড় ছেলে তোহা মোহাম্মদ, ভাই অব. সহকারী অধ্যাপক শামসুদ্দিনসহ অনেকে তার জীবনী উল্লেখ করে বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য গত ১৫ মার্চ শুক্রবার নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চে আল নুর মসজিদে হামলায় নিহত হন কৃষিবিদ ড. আব্দুস সামাদ। ঘটনার পর ২২ মার্চ জানাজা শেষে ক্রাইস্ট চার্চের কেমেট্্ির কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।
জানা যায় ১৯৬৯ সালে মেট্টিক পাস করে স্থানীয় কলেজ থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্বদ্যিালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা নেন। পরে ১৯৮০ সালে সেখানেই তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন।
এর আগে তিনি এক বছর বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে চাকরি করেছেন। ১৯৮৮ সালে নিউজিল্যান্ডের লিংকন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
সেখান থেকে ফিরে আবারও ময়মনসিংহে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষিতত্ত্ব বিভাগে অধ্যাপনা করেন। চাকরি শেষ করার আগেই তিনি অবসর নিয়ে নিউজিল্যান্ডে পরিবারসহ বসবাস শুরু করেন। সেখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে
শিক্ষকতাও করতেন। পাশাপাশি ওই মসজিদে মোয়াজ্জেমের দায়িত্বও পালন করেন। এমনকি ইমামের অনুপস্থিতিতে তিনিই ইমামতি করতেন এবং ওয়াক্তি নামাজের ইমামতিও করতেন তিনি।
বাংলাদশের নাগেশ্বরীতে দুই মায়ের পরিবারে ৭ ভাই ৯ বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন ড. আব্দুস সামাদ।
এরমধ্যে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয় এক ভাই। ড. সামাদের তিন ছেলে। এক ছেলে তোহা মোহাম্মদ বাংলাদেশে বেসরকারি কোম্পানীতে চাকুরি করে।
বাকি দুই ভাই তারেক মাহমুদ ও তানভীর হাসানসহ স্ত্রী কিশোয়ারাকে নিয়ে নিউজিল্যান্ডে স্থায়ীভাবে কসবাস করতেন।
সেখানকার নাগরিকত্বও পেয়েছিলেন তারা এবং সেখানে জমি কিনে বাসাও করেছেন তিনি। মাঝে মাঝে বাংলাদেশের গ্রামের বাড়িতে এসে দেখাশোনা করে যেতেন।
