ভিটে মাটি বন্ধক রেখে প্রতিবন্ধীদের জন্য স্বর্গ গড়েছেন ছাত্রলীগ নেতা

স্টাফ রিপোর্টারঃ

দেশ ও সমাজের জন্য কিছু করার স্বপ্ন কে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নিজের সব সঞ্চয, সম্পদ এমনকি নিজের থাকার শেষ সম্বল ভিটে মাটিটুকুও বন্ধক রেখেছেন ব্যাংকে। নিজের সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছেন প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের কল্যাণে গড়ে তুলেছেন চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ও থেরাপি ভিত্তিক সমন্বিত স্কুল। নিজস্ব জমির উপর ভবন, গাড়িসহ নানান সুবিধা যা সরকারি কোন প্রতিষ্ঠানেও নেই। আর এসব করেছেন তার ব্যক্তিগত অর্থে সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা। জানা যায় আলমগীর হোসাইন নাগেশ্বরী উপজেলার নেওয়াশী ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ছিলেন৷ ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সংগঠনকে করছেন সুসংগঠিত। উপজেলার সিনিয়র কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতার কাছ থেকে জানা যায়, আলমগীর হোসাইন এর সময় উপজেলার সকল ইউনিয়নের চেয়ে তার ইউনিয়ন ছিলো সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। সে ছিলো একজন রাজপথ কাপানো মেধাবি ছাত্রনেতা। তার বরাবরেই চিন্তা ছিলো তিনি দেশের জন্য কিছু করবেন সমাজের জন্য কিছু করবেন, তাই তো ২০১৫ সালে গড়ে তুলেছেন সুখাতি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়, যেখানে অটিজম, সেরিব্রাল পালসি, ডাউনসিন্ডোম, সেন্সরি ডিস অর্ডার, বুদ্ধি প্রতিবন্ধীতা, বিলম্বে কথা বলা, বিলম্বে বিকাশ ও অস্থিরতা সম্বলিত বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য চিকিৎসা প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পূর্ণবাসন ও থেরাপি ভিত্তিক সমন্বিত স্কুল। যা কুড়িগ্রাম জেলার একমাত্র প্রতিষ্ঠান ও রংপুর বিভাগে দ্বিতীয় অবস্থানে কাজ করে যাচ্ছে। সরে জমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, নিজস্ব জমির উপর সুদৃশ্য অবকাটামো যা দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়, শিল্পির তুলিতে আকা নয়নাভিরাম ছবি, যা কল্পনাকেও হার মানায়। বিশেষ এই শিশুদের চিকিৎসা প্রশিক্ষনের উপযোগী পরিবেশ বৈজ্ঞানিকসব পদ্ধতি। শিশুদের চিকিৎসার জন্য ডাক্তার, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, ফিজিও থেরাপিস্ট, স্পিস এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টসহ দক্ষ প্রশিক্ষন প্রাপ্ত শিক্ষকের সমন্বয়ে কাজ করছেন তারা। প্রত্যেকটি শিশুর এখানে গোসল থেকে দুপুরের খাবার সবি হয় এখানে। তাদের খেলাধুলার জন্য রয়েছে মিনি শিশু পার্কসহ নানান সুবিধা যা আপনার কল্পনাকেও হার মানাবে। এমন সুন্দর একটি প্রতিষ্ঠান যিনি সৃষ্টি বা প্রতিষ্ঠিত করেছেন কথা হয় সেই ছাত্রলীগ নেতা আলমগীর হোসাইন সাহেবের সাথে। তিনি জানান, আমি বঙ্গবন্ধুর আর্দশ কে লালন করে শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে চাই। কিন্ত বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বাদ দিয়ে তা কখনো সম্ভব নয়। কেননা তারাও এদেশের নাগরিক। উপযুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ পেলে তারা দেশের সম্পদ হিসেবে পরিনত হবে। তাই আমার স্বপ্ন হচ্ছে আমি দেশের জন্য কিছু করবো সমাজের মানুষের জন্য কিছু করবো, আমার এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের স্বাভাবিক জীবন যাপন নিশ্চিত করাই আমার মুল উদ্দেশ্য। এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে হাজারো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে আমার দলের নেতা থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা কার কাছে যাইনি আমি কিন্তু কেউ আমাকে কোন সহযোগিতা করেনি উল্টো ভয়ভীতি দেখিয়েছেন কিন্তু আমি দমিনি নিজের ভিতরের লালিত স্বপ্নটাকে বাস্তবায়ন করতে নিজের বলতে যা ছিলো সব উজাড় করে দিয়েছি এখন হয়তো আমি নিঃস্ব কিন্তু আমি মনে করি আমি বাংলাদেশ। আর আমি সারাজীবন তাদের জন্য কাজ করতে চাই। এলাকাবাসিরা জানান, আলমগীর তার ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন কিন্তু কতদিন ধরে রাখতে পারবে তা সন্দেহ এই প্রতিষ্ঠানটি চালাতে মাসে প্রায় দু’ লাখ টাকা ব্যয় হয় যা তার একার পক্ষে চালানো অসম্ভব তাই আমরা মনে করি সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানরা যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতো তাহলে হয়তো এখান থেকে হাজারো মানুষ সেবা পেতো। এগিয়ে যেত দেশ।
জয় হোক এমন ত্যাগী নিস্বার্থ হৃদয়বান মানুষের এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

Share Button