স্টাফ রিপোর্টারঃ
রংপুরের মার্কেটগুলো ও আট উপজেলার হাট বাজার। অনেকে ইতোমধ্যে সেরে ফেলেছেন ঈদের কেনাকাটা। তবে বাজারমুখী মানুষের ঢল এখনও ব্যাপকভাবে শুরু হয়নি।
কৃষকরা এখনও ধান মাড়াইয়ের কাজ শেষ করতে পরেনি। এখনো এই মৌসুমের কাজ অব্যাহত রয়েছে। দিনে রোদের তীব্রতা ও রাতে বৃষ্টি এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শহরের ক্রেতারা সংগত কারণেই ঈদের কেনাকাটা করতে পারছে না।
তবে বিপণী বিতানগুলোতে সবে জমে উঠতে ঈদের কেনাকাটা। এবারে ভারতীয় কাপড়ের চাহিদা থাকলেও ক্রেতারা দেশি কাপড়ের দিকে ঝুঁকছেন বলে ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানান। তবে ক্রেতাদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যাই বেশী। পুরুষ ক্রেতারা একদম নেই বললেই চলে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুর শহরের সুপার মার্কেটের কাপড়ের দোকানগুলোতে সন্ধ্যার পরে ক্রেতাদের ভিড় শুরু হয়। দিনে রোদের তীব্রতা বেশি হওয়ায়, রাতে ক্রেতাদের শপিং করা সুবিধা বলে মনে করছেন ক্রেতারা।
ক্রেতারা বলেছেন,গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি হলেও ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জমে উঠতে ঈদের কেনাকাটা। ঈদ মার্কেটে রাতে করে নারীদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা দরকার।
ব্যবসায়িরা জানায়, এবারে অনেক ডেরি করে কেনাকাটা শুরু হয়েছে। রমজানের ১৫ রোজার পর থেকে কেনাকাটা শুরু হয়। এবারে ভারতীয় কাপড়গুলোতে পেছনে ফেলে বাজার দখল করেছে দেশীয় সুতি কাপড়। গরমের কারণে দেশি সুতি থ্রি পিসগুলো সবার পছন্দ। তাই সুতি থ্রি পিস বিক্রির শীর্ষে রয়েছে। সমান তালে বিক্রি হচ্ছে ইন্ডিয়ান গাউন ও কাজ করা লং ফ্রোক।
এছাড়া শিশুদের হরেক রকম পোশাকও বিক্রি হচ্ছে বেশী। তবে শিশুদের পোশাকের দাম অপেক্ষাকৃত বেশী। এছাড়াও জিন্স প্যান্ট, গ্যাবার্ডিন প্যান্টের পাশাপাশি কালার শার্ট ফুলশার্ট, চেক শার্ট, এক কালার শার্ট রয়েছে পছন্দের তালিকায়। টপ, স্কার্ট, ফ্রকও রয়েছে ছোটদের পছন্দের তালিকা। হরেক রকমের বর্ণালী পাঞ্জাবির চাহিদাই এবার সর্বাধিক। এক রংয়ের বা সাদা পাঞ্জাাবির দিকে নজরই দিচ্ছে না ক্রেতারা। জুতার দোকানগুলোতে ভীড় বাড়তে শুরু করেছে।
সালিমার সুপার মার্কেটের একজন বিক্রেতা বলেন, ক্রেতার চাহিদা অনুসারে আমরা দেশি বিদেশি দুই অনুসারে আমরা দেশি বিদেশি দুই ধরণের পোশাকই বিক্রি করছি। সন্ধ্যার পর থেকে ক্রমেই ক্রেতা বাড়ছে। এবারের ঈদে বেচাকেনা ভালই হবে বলেই বিক্রেতারা আশা করছেন। এছাড়াও এমব্রয়ডারি, ব্লক, হাতের কাজ, স্ক্রিন প্রিন্ট ও কারুকাজ করা বাহারি শাড়িরও চাহিদা রয়েছে বিপনী বিতানগুলোতে।
এদিকে জুতার দোকানেও রয়েছে অনেক ভীড়। জুতা ব্যবসায়ী আমজাদ বলেন, আমাদের জুতার দোকানে ভীড় থাকলেও গতবারের মত বিক্রি নেই। একারণে জুতা ব্যবসায় লস হতে পারে।
হাট বাজারগুলোতে রাস্তার দুই পাশ দিয়ে ফুটপাতের দোকানে মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ কেনাকাটা করছে। তবে তারাও বলছে গতবারের চেয়ে এবারে দাম অনেক বেশি।
জালাল নামে এক ক্রেতা বলেন, ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই, দাম বেশি হওয়ায় বাড়ির সকলের জন্য কেনা হলো না।
