কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
অবশেষে মারা গেলো নাগেশ্বরী হলিকেয়ার ক্লিনিক এন্ড ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জীবিত নবজাতককে মৃত ঘোষণা করা সেই শিশুটি। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত একটার দিকে রংপুর ডর্ক্টস ক্লিনিেিক এনআইসিইউতে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। পরে শিশুটির মরদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করলে শুক্রবার সকালে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এ নিয়ে ব্যাপক শোকের ছায়া নেমে এসেছে ওই পরিবারে।
গত সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর হলিকেয়ার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জীবিত নবজাতককে মৃত ঘোষনা করে এক ঘন্টা ফেলে রাখার অভিযোগ ওঠে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ করেন ওই পরিবার।
নবজাতকের পরিবার জানায়, নাগেশ্বরী পৌরসভা এলাকার মালভাঙ্গা গ্রামের আব্দুল আউয়ালের ছেলে হাবিবুর রহমান সাদ্দামের স্ত্রী গর্ভবতী জান্নাতুন ফেরদৌস নিশির গত সোমবার (২০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে পেটব্যথা উঠলে তাকে নাগেশ্বরী হলিকেয়ার ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিয়ে আসে।
সেখানে চিকিৎসক রোকেয়া আক্তার বিজলি পরীক্ষা নীরিক্ষা করে নিশি ২৫ সপ্তাহের গর্ভবর্তী এবং সে কৃটিক্যাল অবস্থায় রয়েছে, ১০ মিনিটের মধ্যে ক্লিনিকে ভর্তি করে সিজারিয়ান করতে বলেন।

পরে রোগীকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হলেও স্বজনরা সিজারিয়ান করতে না চাইলে প্রায় দু’ঘন্টা পর মেয়ে সন্তান প্রসব করলে চিকিৎসক নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন। এর কিছুক্ষণ পর আরও একটি ছেলে সন্তান প্রসব করলে তাকেও মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক রোকেয়া আক্তার বিজলী। দুই নবজাতককে কাপড়ে ঢেকে রেখে স্বজনরা কান্নাকাটি শুরু করেন।
প্রায় ঘণ্টাখানেক পর দুই নবজাতককে দাফন করতে কাফনের কাপড়সহ অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে নবজাতকের দুাদু আসলে একজন নবজাতকের কানের কাছে সূরা পড়তে যায়।
এক পর্যায়ে ছেলে বাচ্চাটির কানে সূরা পড়ে ফুঁ দিতে গিয়ে দেখেন সে জীবিত রয়েছে। বিষয়টি চিকিৎসককে জানান। চিকিৎসককে জানানো হলে, ছয় মাসের বাচ্চা বাঁচে না এবং পাঁচ মিনিটের মধ্যে মারা যাবে বলে চিকিৎসক বলেন বলেও জানান স্বজনরা।
পরে স্বজনরা নবজাতককে রংপুরের ডর্ক্টস ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সন্ধ্যায় রোগীর স্বজনসহ স্থানীয়রা ক্লিনিকে আসলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এসময় নাগেশ^রী পৌর মেয়র আব্দুর রহমান মিয়া ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নবজাতকের পিতা হাবিবুর রহমান সাদ্দাম বিটিসি নিউজ এর প্রতিবেদককে বলেন, আমার স্ত্রীকে হলিকেয়ার ক্লিনিকে নিয়ে আসলে ডাক্তার রোকেয়া পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দশ মিনিটের মধ্যে রোগী ভর্তি করতে বলেন। প্রায় দু’ঘন্টায় একটি বাচ্চা হলে ডাক্তার বলেন মৃত বাচ্চা। এরপর আর একটি হলে সেটাকেও মৃত বলেন তিনি। পরে কাপড়ে ঢেকে রাখা হয়। সবাই কান্নাকাটি করে। আমার বাবা কাফনের কাপড় এনেছে।
পরে আমার এক মুরুব্বি বাচ্চার কানে সূরা পড়তে গিয়ে দেখে বাচ্চা নড়ছে। পরে রংপুরে ক্লিনিকে নিয়ে যাই। পরে সেখানেই এনআইসিইউতে থাকাবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ১টার দিকে মারা যায়। তবে ডাক্তারের অবহেলার কারণেই এত বড় ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে এবং সঠিক সময়ে সুচিকিৎসা পেলে হয়তো আল্লাহ চোখ তুলে তাকাতো। আমরা চাই এর সঠিক বিচার হোক। যাতে আর কোনো বাবা মায়ের বুক খালি না হয়।
এ ব্যাপারে কথা বলতে চিকিৎসক রোকেয়া আক্তার বিজলির সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি।
জেলা সিভির সার্জন মো. হাবিবুর রহমান বিটিসি নিউজ এর প্রতিবেদককে বলেন, তদন্ত কমিটি করে দেয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে। তদন্তের রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
