খোলা চিঠিঃ করোনা প্রতিরোধ বিষয়ে আবেদন প্রসঙ্গে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
সালাম ও শ্রদ্ধা জানবেন। আমাদের অন্তরের ভরসার স্থল আপনি। আপনার বিচক্ষণ সিদ্ধান্তই পারে বাংলাদেশকে এই করোনা মহামারীর কবল থেকে রক্ষা করতে। আপনার পাশে আছে অগণিত মানবিক মানুষ- ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, গবেষক, চৌকশ প্রশাসন, আর্মি, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, সর্বোপরি সাধারণ সেচ্ছাসেবী ও মানব দরদী দাতা ( তালিকা দীর্ঘ করলাম না)। একটি বিষয়টি আপনার নজরে আনার জন্য কবি নির্মলেন্দু গুণ এর স্বরণাপন্ন হলাম। আপনি জানেন স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা সেই কবিতাটি। যে কবিতার গভীরে গেলে আমরা দেখি এক কালো হাতের চক্রান্তের কথা আগামী প্রজন্মকে জানাতে কবি লিখেছেন-
কবিহীন এই বিমুখ প্রান্তরে আজ
কবির বিরুদ্ধে কবি,
মাঠের বিরুদ্ধে মাঠ,
বিকেলের বিরুদ্ধে বিকেল,
উদ্যানের বিরুদ্ধে উদ্যান,
মার্চের বিরুদ্ধে মার্চ…।
বিশ্বময় এই করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয় করতে ৭ মার্চের কবি বঙ্গবন্ধুর মতো আপনিও গর্জে উঠুন। উপরের চরণগুলোর বীজমন্ত্র কাজে লাগানোর জন্য এই মুহুর্তে আপনার কিছু নির্দেশনা খুব জরুরী।
প্রথমত: আলেমের বিরুদ্ধে আলেমকে কাজে লাগান। কিছু আলেম/মৌলবী করোনার ভয়াবহতা উপেক্ষা করে তাবলীগ জামাত বা মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ের পক্ষে জনগণকে এখনও উদ্বুদ্ধ করছে তাদের বিরুদ্ধে সে সমস্ত জ্ঞানী ও দেশপ্রেমী আলেমদের মাধ্যমে হাদিস কোরানের আলোকে মহামারীকালীন জনগণের করণীয় উল্লেখ করে
**মিডিয়ায় বেশি বেশি প্রচার
**জ্ঞানী দেশপ্রেমী আলেমের সহায়তায় ম্যাসেজ তৈরী করে সকল মোবাইল ফোন কোম্পানীর মাধ্যমে গ্রাহকের নম্বরে ভয়েস এসএমএস প্রেরণ এবং
** জ্ঞানী দেশপ্রেমী আলেমের বয়ান রেকর্ড করে প্রতিটি অলিগলিতে মাইকের মাধ্যমে প্রচার করার নির্দেশ দিন
আমরা জানি সবাই কাটমোল্লা নয়, একাজে আলেম সমাজ নিশ্চয় সহযেগিতা করবেন।
দ্বীতীয়ত: যে সমস্ত নেতা, প্রাশাসন বা সমাজসেবী স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গণজামায়েত করে ত্রাণ বিতরণ করছে তাদের বিরুদ্ধে সেইসমস্ত নেতা, প্রাশাসন ও সমাজসেবীদের কাজে লাগান যারা ইতোমধ্যে দৃষ্টান্ত তৈরী করেছেন
** গণজমায়েত করে ত্রাণ বিতরণের খবর গণমাধ্যমে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারী এবং যারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ত্রাণ দিচ্ছন একমাত্র তাদের খবরই গণমাধ্যমে প্রকাশ করা
** প্রধান সড়কে টহল কমিয়ে গ্রাম/নগরীর অলিগলি, বস্তি এলাকা, বাজার এলাকা ও সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে সার্বক্ষণিক আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে মোতায়েন করা বা তাদের টহল আরো জোরদার করা
** সেনা সদস্য বা অন্যান্য আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর মাধ্যমে ভিডিও ক্লিপ বা ভয়েস রেকর্ড করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য মাইকিং এর ব্যবস্থা করা
তৃতীয়ত: নেতার বিরুদ্ধে নেতাকে উদ্বুদ্ধকরণ
** যে সমস্ত নেতা বিভিন্ন অনিয়ম করছে তাদেরকে নির্বাহী আদেশে বহিষ্কার করে ত্যাগী ও নিষ্ঠাবান নেতাকে দায়িত্ব দিন
** অবিবেচক, নীতিহীন, অযৌক্তিক কথা বলা নেতা ও তেলমারা নেতাদের গণমাধ্যমে কথা না বলার নির্দেশ দিন এবং মিডিয়ায় কথা বলার জন্য দল থেকে সুনির্দিষ্ট মুখপাত্র ঠিক করে দিন
চতুর্থত: ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসতে নির্দেশ দিন
** এই মহামারীরতে যারা নকল সেনিটাইজার ও জীবাণুনাশক তৈরী করছে তাদের দৌরাত্ম্য কমাতে ঔষধ কোম্পানিগুলোকে সেনিটাইজার ও জীবাণুনাশক তৈরীর নির্দিষ্ট লক্ষমাত্রা দেয়া এবং বিনামূল্যে বিতরণের ব্যবস্থা করা
** বিআরটিসি বাসগুলোকে ক্ষুদ্রব্যসায়ীদের সহায়তায় সরকার নির্ধারিতমূল্যে ভ্রাম্যমাণ বাজার হিসেবে গড়ে তুলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করা এবং অবশ্যই তাতে সুনির্দিষ্ট যোগাযোগ নম্বরসহ গ্রাহককে মালামাল বাসায় পৌঁছানোর জন্য সেচ্ছাসেবী মোতায়েন করার নির্দেশ প্রদান করুন
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী; দেশের এই ক্রান্তিকালে সৃষ্টিকর্তার দয়া নিশ্চয় আপনার যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে পৌঁছে যাবে। আমরা আপনার বিচক্ষণতার উপর ভরসা রাখি এবং বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে আপনারই উপর আস্থা রাখি। আমরা আরো চাই
*বেশি বেশি করোনা টেস্ট করা হোক
* গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহকে টেস্টিং কীট ও প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্য অনুদান বা বিশেষ ঋণ প্রদান করা হোক
* করোনা চিকিৎসা উপযোগী স্থায়ী ও অস্থায়ী হাসপাতাল দ্রুত নির্মাণ করা হোক
*ভবঘুরে, পথশিশু ও ছিন্নমূল পরিবারগুলোকে বিভিন্ন বিদ্যালয়সমুহে থাকা ও খাওয়ার বন্দোবস্ত করা হোক
* রাস্তাঘাটে বা খোলাজায়গায় ত্রাণ কাজ সীমিত করে প্রতিটি ঘরে ঘরে সদস্য হিসেব করে সুনির্দিষ্ট পরিমান ত্রাণ দেয়া হোক
*ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মাধ্যমে প্রতিটি বাড়ি/খানা অনুযায়ী ত্রাণ কার্ড প্রদান করা হোক (যাতে কে কতটুকু সরকারী বেসরকারি ত্রাণ পেয়েছে সেটা রেকর্ড থাকে)
হে মানবতার জননী; আমি একজন সাধারণ নাগরিক। হয়ত আবেগের বশে একটু বেশি আবদার করে ফেলেছি। আপনার প্রত্যুৎপন্নমতিতায় আমি সব সময় বিস্মিত হই।। এই উদ্যোগ যদি চলমান থাকে তবে তা আরো জোরদার করুন। আশা করি আমার ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আমার দাবীগুলো বিবেচনায় রাখবেন।
বিনীত
রওশন জান্নাত রুশনী
একজন সচেতন নাগরিক
শেখেরটেক, আদাবর,
ঢাকা-১২০৭।
