দুধকুমারের ভয়াল ভাঙনে আতঙ্কিত মানুষ : নদী রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপের দাবিতে বিক্ষোভ

জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নে দুধকুমার নদের ভয়াবহ ভাঙন নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙনের তীব্রতায় ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা।
গত কয়েক দিনে উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নের চরকাপনা এলাকায় দুধকুমার নদের অব্যাহত ভাঙনে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ও বিস্তীর্ণ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে স্থানীয় মাদ্রাসা, মসজিদ, বাজার এবং কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এ অবস্থায় শুক্রবার নদীর তীরে শত শত নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তারা অবিলম্বে নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন চর আউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু তাহের মাস্টার, স্থানীয় সমাজসেবক ও কাজী মোঃ মোসলিম উদ্দিন খন্দকারসহ ভাঙনকবলিত এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষ।
বক্তারা বলেন, বছরের পর বছর ধরে দুধকুমার নদের ভাঙনে সর্বস্ব হারাচ্ছে নদীপাড়ের মানুষ। কিন্তু স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও নদীতে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান জানান, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে খুব দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা। তাদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়—অবিলম্বে কার্যকর প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করে দুধকুমার নদের ভয়াল ভাঙন থেকে মানুষ, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি রক্ষায় দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। এখন এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা—পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে নদীভাঙনের এই দুর্ভোগ থেকে তাদের মুক্তি দেবে।

Share Button