প্রবন্ধ প্রতিবেদন:
“উত্তরের অগ্নিকন্যা-নাছিমা জামান ববি”
।। সাইফুল ইসলাম সুইট।।
রংপুর সদর উপজেলা পরিষদ এর পরপর তিন তিনবারের নির্বাচিত আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববি।
তিনি সর্বপ্রথম অবিভক্ত রংপুর সদর (সিটি কর্পোরেশন ও ১১ টি ইউনিয়ন) মিলে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ এর সর্বোচ্চ ভোট পান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ন্যায়, নীতি ও আদর্শের পথে নিজ উপজেলার জনগণকে সেবা দিয়ে যাওয়া অবস্থায় আড়াই বছর এর মাথায় সদর উপজেলা ও রসিক ভাগের পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই থেকে রংপুর সদর উপজেলাবাসীর আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা নিয়ে আজ অবধি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন উপজেলা পরিষদবাসীর অভিভাবক হিসেবে।
রাজনৈতিক, পেশাগত এবং পারিবারিকভাবে রংপুর সদর উপজেলা পরিষদ এর চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববিকে খুব কাছে থেকে দেখে বুঝে এবং জানার মার্ধ্যমে আমার ব্যাক্তিগত অভিমত “উত্তরের অগ্নিকন্যা”- নাছিমা জামান ববি জনগণ এবং জনগণের সেবায় শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনা মেনে উপজেলাবাসীর সেবা করতে গিয়ে সময় দিতে পারেন নিজের একমাত্র সন্তান দোয়াকে। আর এই জনতার চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববি এর উঠে আসার পিছনে যে মানুষটি সবসময় উতসাহ এবং পাশে থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহোযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন অন্য কেউ নন- নাছিমা জামান ববি এর স্বামী রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান সভাপতি এবং সাবেক ছাত্রলীগের নেতা ও জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য সিরাজুল ইসলাম প্রামাণিক।
বিগত ১৫ বছর ধরে রংপুর – ৩ আসনের সাংসদ না হয়েও অলিখিত সাংসদ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন এই জনপ্রতিনিধি দম্পতি। দুজনের রংপুর জেলাসহ পুরো বিভাগের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংবাদিকসহ সুধীমহলে একটি ভালো ইমেজ আছে বিশেষ করে এই দম্পতির করা জনগণের জন্য নানারকম উন্নয়ন ও সেবামুলক কর্মকাণ্ড সমুহ।
আমরা উত্তরবঙ্গের মানুষ যাকে “উত্তরের অগ্নিকন্যা” হিসেবে জানি তার পুরো নাম মোছাঃ নাছিমা জামান ববি। স্বামী সিরাজুল ইসলাম প্রামাণিক পেশায় ঠিকাদার। তিনি নিজে পেশায় ইংরেজি প্রভাষক।
রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুষ্করনী ইউনিয়ন এর ফতেপুরে বসবাস। অতি সাধারন জীবনযাপন করেন এবং পোশাকে আশাকেও অতি সাধারন একজন মানুষ।
বাংলাদেশের মানুষ এর গনতন্ত্র ফেরাতে দিন রাত আন্দোলন ও সংগ্রাম করে যাওয়া গনতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে রংপুরের রাজপথে বিভিন্ন ক্লান্তিলগ্নে সাহসী ভুমিকা রেখে যাওয়া নাছিমা জামান ববি বর্তমানে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এর পদের দায়িত্ব প্রাপ্ত হওয়ার আগে রংপুর জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেছেন সফলতার সাথে দীর্ঘদিন।
নাছিমা জামান ববি ও তার স্বামী সিরাজুল ইসলাম প্রামাণিক মিলে ধিরে ধিরে এরশাদের আসন হিসেবে সারা বাংলাদেশে পরিচিতি পাওয়া রংপুর – ৩ এর একঅংশ রংপুর সদর উপজেলা পরিষদবাসীর মানুষের মাঝে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন দর্শন তুলে ধরে এই এলাকার মানুষকে আওয়ামী লীগ এর সাথে যুক্ত করতে থাকেন যার সুফল হিসেবে প্রথমবার ২০১৯ সালের ২৪ শে মার্চে রংপুর সদর উপজেলায় নৌকা প্রতিক বিজয়। ঐতিহাসিক এই বিজয়ের সাক্ষী হিসেবে খুব কাছ থেকে দেখা হয়েছে আমার নিজের। ওনার সাথে রংপুর সদর উপজেলার ৫ টি ইউনিয়ন এর মেঠো পথে ঘুরে যে অভিজ্ঞতা তার বিবরণ আসলে মুখে বলে বা প্রবন্ধ বা প্রতিবেদনে লেখে প্রকাশ করা যাবে না। পুরোপুরি স্বাদ পেতে হলে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ দিন নাছিমা জামান ববি এর সাথে ঘুরতে হবে ইউনিয়ন থেকে ইউনিয়নে গ্রাম থেকে গ্রামে।তাহলেই হয়ত কিছুটা হলেও জানা যায় কিন্তু আমি পেয়েছি সদর উপজেলা পরিষদ এর চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববিকে দেখে বাড়ির ভিতরে থাকা মহিলারা কিভাবে ছুটে আসেন এবং জড়িয়ে ধরে মনের আবেগগুলো একাধারে বলতে থাকেন, আমি দেখেছি চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববির উপজেলার জিপটি দেখলেই বাচ্ছারা কিভাবে মনের আনন্দে ” ববি ববি ববি ” বলে চিৎকার দিয়ে ওঠে।আমি দেখেছি এবং বোঝার চেষ্টা করেছি কিভাবে চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববিকে পেয়ে একজন বিধবা মহিলা তার স্বামী নেই এই অসহায়ত্বের কাহিনী শোনান আর কেনোইবা একজন বয়স্ক ব্যাক্তি তার সন্তানের নিষ্ঠুরতার কাহিনী বলে হালকা হওয়ার চেষ্টা করেন কারন একটাই নাছিমা জামান ববি এর সততা,নিষ্ঠা এবং অর্পিত দায়িত্ব এর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ।
আমি তার নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনা সহ নির্বাচনী কাজে সংযুক্ত থেকে দেখেছি ঠিক যতবার মানুষ জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন দর্শন দেখে নৌকা নৌকা নৌকা বলে স্লোগান দিয়েছেন ঠিক ততটাই আবেগের সাথে যেন ববি ববি ববি বলে নিজ হাতে ওনাকে বিজয়ী করার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছেন। কারণ জনতা যেন কনফার্ম হয়ে মন থেকে জানতেন এই হতভাগ্য রংপুর সদর উপজেলাবাসীর উন্নয়ন একমাত্র নিজ সন্তানের মতোই করতে পারেন নাছিমা জামান ববি এবং তিনি নির্বাচনের এক বছর এর মাথায় তা করেও দেখিয়েছেন। এই অঞ্চলের মানুষের জন্য নিয়ে এসেছেন “গ্রাম হবে শহর”-এর মতো পাইলট প্রকল্প। গ্রামের মানুষ গুলোকে যেন কাদা মারিয়ে চলতে না হয় গ্রাম থেকে গ্রামের পথ-ঘাট জরিপ চালিয়ে কাজ করছেন এবং সঠিক ভাবে কাজ গুলো সম্পাদনে তদারকি করে যাচ্ছেন নিজেই।
সর্বশেষ সারাবিশ্বের মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে রংপুর সদর উপজেলাবাসীকে মুক্ত রাখতে অবিরাম ছুটে বেরাচ্ছেন উপজেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায়। যেখানে পুরো বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস রোধে কার্যক্রম ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে ২৬ শে মার্চ সেখানে সদর উপজেলায় আমরা দেখছি ১৫ ই মার্চ থেকেই যা এতিমর্ধ্যেই সারাদেশের বিজ্ঞজনের কাছে বেশ সাহসীকতার বিষয় হয়েছে।
প্রথম ধাপে রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববি তার নিজ উপজেলার জনগণকে সচেতন করতে মাইকিং, লিপলেট বিতরণ,উপজেলার সমস্ত হাট-বাজার রাত ৮ টার ভিতর বন্ধ ঘোষণা, প্রবাসীদেরকে নিজের বাসায় হোম করায়ন্টাইন এ রাখা,উপজেলা এরিয়া জীবাণুনাশক স্প্রে করানো, বিনামূল্যে হ্যান্ড সোপ ও মাক্স বিতরণ স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন থেকে শুরু করে অসহায় গরীব ও দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরনসহ নানারকম কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন এবংপ্রতিনিয়ত ছুটে বেরাচ্ছেন উপজেলার আনাচে-কানাচে,যা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে।
তাই আসুন নিজেকে পরিবর্তন করি রংপুর সদর উপজেলা পরিষদ এর সফল চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববির মতো জনবান্ধন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনে ব্রত হই জনতার কল্যাণে-
মুজিব শতবর্ষে- “প্রত্যেকে আমরা পরের তরে”- এই প্রতিবাদ্য বিষয়টিকে মেনে নিজেকে নিবেদিত করি মানুষের কল্যানে।
