পা দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে নরসিংদীর সঞ্জু দাস

স্বপন দাস বিজয়, নরসিংদী প্রতিনিধিঃ

জন্ম থেকেই দুটি হাত না থাকায় ‘পা দিয়ে লিখে’ এবার জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে প্রতিবন্ধী সঞ্জু দাস। পা দিয়েই স্বপ্ন জয় করার চেষ্টা তার।

সঞ্জু নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের কান্দাইল গ্রামের হিন্দু পাড়ার দরিদ্র মাছ ব্যাবসায়ী চিত্ত রজ্জন দাসের ছেলে। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সঞ্জু ২য়।

নারায়নগঞ্জের জেলার আড়াই হাজার উপজেলার পুরিন্দা কে এম সাদিকুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে সঞ্জু। সে নরসিংদী সদর উপজেলার বনাইদ বাবু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী।

মানুষের মত মানুষ হওয়ার দুর্বার বাসনায়, শত বাধা উপেক্ষা করে অসম্ভবকে সম্ভব করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সংগ্রাম করে এ পর্যন্ত এগিয়ে এসেছে সঞ্জু।

জন্ম থেকেই দুটি হাত না থাকায়, সঞ্জুর পায়ের আঙ্গুলের মধ্যে চক ও পেন্সিল দিয়ে একটু একটু করে লেখার অভ্যাস শুরু করা হয়।

মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই পা দিয়ে লেখার অভ্যাস ও পুরোপুরি আয়ত্ত করে ফেলে সে। বাবা মায়ের আগ্রহ আর শিক্ষকদের আন্তরিকতায় সঞ্জু সব বাধাকে পিছনে ফেলে এ পযন্ত এসেছে।

সঞ্জু লেখাপড়া শিখে নিজের পায়ে দাড়াতে চায়, মানুষের মত মানুষ হতে চায়। বড় হয়ে সে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায়। প্রতিবন্ধীরা যে সমাজের বোঝা নয় এটা সে প্রমাণ করতে চায়।

সঞ্জুর বাবা চিত্ত রজ্জন দাস বলেন, শত কষ্ট ও অভাবের মধ্যেও আমি সন্তানদের লেখাপড়া করাচ্ছি। আমি চাই ওরা মানুষের মতো মানুষ হোক।

তাই দুই ছেলে ও এক মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছি। অর্থের কারণে ওদের লেখাপড়া করাতে আমার খুবই কষ্ট হয়। তারপরও যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।

জানায়, জন্ম থেকেই আমার দুটি হাত নেই, পা দুটি বাকা। প্রথমে কেউ ভাবেনি আমার পক্ষে লেখাপড়া করা সম্ভব হবে। তবে আমার বাবা-মায়ের আগ্রহ আর শিক্ষকদের সহযোগিতায় তা সম্ভব হচ্ছে।

আমি লেখাপড়া শিখে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই, বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।

Share Button