জ্ঞানের প্রদীপ জ্বলে ফুলবাড়ীর শিরাজী অাশ্রমে

নুরনবী মিয়া, ফুলবাড়ী(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার কবির মামুদ শিরাজী আশ্রম। কবির মামুদ কোন মানুষের নাম নয়। এটি একটি গ্রামের নাম। আসামের লাইন প্রথা তথা বাঁঙ্গালি খেদার বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলন চলছে। বাংলা খেদার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার জন্য বাংলা আসাম জুড়ে যে মুজাহিদ বাহিনী গঠন করা হয়েছিল সেই বাহিনীর অন্যতম পুরোধা ছিলেন বিশিষ্ট বাগ্মী ও আধ্যাতিক সাধক পুরুষ মাওলানা সৈয়দ আসাদ-উদ-দৌলাহ শিরাজী। তিনি আর কেউ নন বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত অনল প্রবাহের কবি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজীর সুযোগ্য জৈষ্ঠ পুত্র।

তিনি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কবির মামুদ গ্রামে গড়ে তোলেন শিরাজী আশ্রম। এ আশ্রমে এসে সবাই নিজেকে ধন্য মনে করেন। আশ্রমে এক সময় অভাবি মানুষের পড়ালেখা,বিয়েসাদী, কর্মসংস্থানের ব্যবস্হা, মানব প্রীতি, মানব কল্যাণে আত্ননিয়োগ শিক্ষা দেওয়া হয়। এখানে মানু্ষ এসে জীবনে-মরনে ধন্য হয়েছেন। পরশমনির ছোয়ায় যেমন লোহা সোনা হয় তেমনি শিরাজীর আশ্রমে এসে মানুষ বদলে যায়। শতশত মানুষ এসে এই আশ্রমে নানা অনুশীলন পালন করছে। মুসলমান শুধু পৈতৃক ধর্ম পরিচয়ে পরিচিত হয়ে উঠবে না তাদের নিজেদেরও চরিত্র, আদব-কায়দা জ্ঞান ও কর্ম-সাধনায় তারা সত্যিকার মুসলমান রূপে হবে সকলের শ্রদ্ধার পাত্র। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই আশ্রমটি জ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে আসছে।

বর্তমানে এই আশ্রমে মাজার, জিকিরখানা, ঈদগাহ মাঠ, অতিথীশালা, ওয়াজমাহফিলের মঞ্চ এবং বড় বড় দুইটি পুকুর রয়েছে। আসাদ-উদ-দৌলা শিরাজীর মুরিদরা এ মাজারে নিয়মিত আসা যাওয়া করেন। প্রতি বছর ২৪ শে ডিসেম্বর ওয়াজ মাহফিল ও প্রতি বৃহস্পতিবার ধর্মীয় অালোচনা ও জিকির করা হয়। ভারত ও বাংলাদেশে এ রকম ৩৫ টি আশ্রম গড়ে তোলা হয়। এখানে মাওলানা সাহেবের চুল, দাড়ি ও পিরহানা দাফন করা হয়। কথিত আছে মাজার সংলগ্ন পুকুরের পানি যে কোন রোগের নিয়তে পান করলে সেই রোগ আরোগ্য হয়। বিশেষ করে সন্তানহীন মহিলারা পুকুরের পানি নিয়ত করে পান করে সন্তান লাভ করেছেন। বর্তমানে আসাদ-উদ-দৌলা শিরাজীর পুত্র সৈয়দ শামীম শিরাজী নিয়মিত মুরিদদের দেখাশুনা ও আশ্রমটি পরিচালনা করে আসছেন।

সরজমিন ঘুরে জানা গেল অবজ্ঞায় এ পল্লীর বাঁকে যে আলো জ্বলে উঠেছে তা যতক্ষুদ্র হোক না কেন এর আলোকে একদিন দিকদিগান্তর উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে। শুধু ফুলবাড়ী বা এদেশে নয় আসাদ-উদ-দৌলা শিরাজীর মানব কল্যাণে আত্ন নিয়োগের দৃশ্য দেখে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শিরাজীর উদ্দেশ্যে লিখেন-
হে কবি,হে বাগ্মী
প্রতিভার মর্ত অবতার
তোমার জনমে ধন্য
নব্য বঙ্গঁ করে পুরস্কার।।
(হোসেন মাহমুদ সম্পাদিত শিরাজী গ্রন্হ 502 পৃষ্ঠা)

Share Button