রৌমারীতে শিশুসহ মাকে গলাকেটে হত্যা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ৫ মাসের শিশু ও মাকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থল থেকেই শিশু হাবিবের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় মাকে আশংকাজনক অবস্থায় রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতির অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পথেই তারও মৃত্যু হয়। শনিবার ভোররাতে জেলার রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের নতুন বন্দর হাজিপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।নিহত শিশু হাবিব ও তার মা হাফসা আক্তার নতুনবন্দর এলাকার সাহেব আলীর সন্তান ও স্ত্রী।
পুলিশ ও এলাকাবাসীরা জানান, শনিবার সকালে ৬টার দিকে প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ প্রতিবেশী আব্দুর সবুর নামে এক ব্যক্তির পুকুরপাড়ের পূর্বপাশে ধানখেত থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে সকলকে ডাক দেন। পরে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিশুর মরদেহ ও পাশে গলাকাটা শিশুরটির মা হাফসাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। এরপর তারা তাদের পরিবারের সহায়তায় শিশুর মরদেহসহ হাফসাকে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে হাফসার অবস্থা গুরুতর হলে চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হলে পথেই তার মৃত্যু হয়।

আব্দুর সবুর বলেন, ভোর বেলা পুকুরপাড়ের পূর্বপাশে ধান খেতে গোঙরানির শব্দ কানে আসলে এগিয়ে দেখি হাফসাকে গলাকাটা অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে। তার পাশেই গলাকাটা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ। আমার চিৎকারে আশ-পাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। পরে রৌমারী থানা পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে শিশুর মরদেহ ও মা হাফসাকে উদ্ধার করে।
নিহত হাফসার বাবা উপজেলার সদর ইউনিয়নের নতুনবন্দর গ্রামের আব্দুর রশিদ বলেন, আমার মেয়ে হাফসা আক্তার হারেছার সাথে একই উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের ওকড়াবান্দা গ্রামের মৃত বাহাদুরের ছেলে দিনমজুর সাহেব আলীর সাথে দেড় বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ে পর থেকে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল। এরমধ্যে গত ৫ মাস আগে তাদের ঘরে একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। তার মেয়ে সন্তান প্রসব করেন আমাদের বাড়িতেই। এর মধ্যে জামাই তার সন্তানের খোঁজ পর্যন্ত নেয়নি। তার নাতী অসুস্থ হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেলে একই ইউনিয়নের ওকড়াবান্দা গ্রামের শহিদের ছেলে জাকির হোসেন ওরফে জফিয়াল মেয়ের উকিল বাবার বাড়িতে যায় হারেনা। শিশুটিকে নিয়ে শুক্রবার সকাল ৮টার নৌকায় তার উকিল বাবার সাথে কুড়িগ্রামের ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার কথা। এরপর থেকে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শনিবার সকালে আমার মেয়ে ও নাতির লাশ পরে ছিল আমার বাড়িতে আসার পথের একটি পুকুর পাড়ে।

রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মুন্তাছের বিল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শিশু ও মায়ের লাশ ময়না তদন্তের জন্য রবিবার কুড়িগ্রাম মর্গে প্রেরণ করা হবে। তবে তার স্বজনদের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

Share Button