নূর-ই-আলম সিদ্দিক:
নাগেশ্বরীর গঙ্গাধর নদে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে মিঠাপানির বিপন্ন প্রজাতির সুস্বাদ মাছ মহাশোল। মাছটি প্রতি বছর কার্তিক মাসের শেষ থেকে অগ্রাহায়ন মাসের পুরোটা সময় ধরে উগজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের শৌলমারী এলাকার গঙ্গাধর নদে জেলেদের জালে ধরা পরে থাকে। মহাশোল নামের এ মাছটি স্থানীয়ভাবে অনেকেই ঘড়েয়া মাছ নামে চিনে থাকে। অন্যান্য মাছেরে তুলনায় মাছটির দাম অনেকটা বেশি হওয়ায় এ মাছটি ধরার জন্য জেলেরা সারাদিন কেউ নৌকায় আবার কেউ নদের তীরে জাল পেতে অপেক্ষা করে এই মাছটি ধরার জন্য। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার মাছের সংখ্যা কম বলে জানায় জেলেরা।
স্থানীয় জেলেদের অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১ থেকে ২ মাস এ মাছটি গঙ্গাধর নদে অবস্থান করে। গঙ্গাধরের শৌলমারী এলাকার গভীরতা কম বলে এখানেই এ মাছটি জালে ধরা পড়ে। সুতোয় বোনা এক প্রকার টানা জাল ফেলে এ মাছ ধরেন এখানকার জেলেরা। জেলেরা জানায়, কেকড়া নামের এ জালটি নদীতে ফেলে মাছ ধরতে ৬জনের একটি দল কাজ করে। দিনে ৩/৪টি করে ঘড়েয়া মাছ তারা ধরতে পারেন। এসব মাছের প্রতিটি ওজন ৩ থেকে ৬ কেজি হয়ে থাকে। কেজি প্রতি দাম পেয়ে থাকেন ৭শ থেকে ৮শ টাকা। আকার ভেদে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার পর্যন্ত বিক্রি হয় প্রতিটি মাছ। তাই সারা দিনে ৬জন মিলে ২/৩টি মাছ ধরলেও ভালো লাভ হয় তাদের। তাই অন্য মাছের চাইতে এই মাছ ধরে থাকেন পুরো সময়টা। ব্যাপক সুস্বাদু এ মাছটির স্বাদ নিতে সচ্ছল ব্যক্তিরা বছরের এ সময়টির জন্য অপেক্ষা করেন। অনেকে জেলেদের আগাম চাহিদা দিয়ে থাকেন।
জেলে নির্মল শীল জানান, গত বছরের চেয়ে এবার মাছে সংখ্যা কমে গেছে। সারা দিনে দুই- তিনটার বেশী ধরা পড়ছে না।
স্থানীয়রা জানান, এই মাছ প্রতিবছর এই এলাকাটিতে ধরা পড়ে। এখান থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ এবং প্রিয় ব্যাক্তিদের উপহার হিসেবে পাঠান অনেকে। চাহিদা, দাম এবং স্বাদে এ মাছটি পেয়েছে রাজকীয় পরিচিতি। শৌলমারী এলাকার ইউপি সদস্য মিরজা মিয়া জানান, ছোট বয়স থেকে তিনি এ মাছের সাথে পরিচিত। তিনি জানান, এ মাছটি স্থানীয় মাছ নয়, পাথুরে নদীর মাছ, পাথরের ময়লা খেয়ে বেঁচে থাকে। শীতের কারনে বছরের এ সময়টায় এখানে চলে আসে। কচাকাটা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল জানান, স্থানীয়ভাবে পরিচিত ঘড়েয়া মাছ খুবই সুস্বাদু, এ মাছের চাহিদা ব্যাপক, একবার হলেও সবাই এ মাছটা চেখে দেখতে চায়। উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে জানা যায়, পাহাড়ী খোরস্রোতা স্বচ্ছ পানির নদীতে ১৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ১৫ মিটার গভিরতায় এ মাছটি বিচরণ করে থাকে। মাছটি দুই প্রজাতির হয়ে থাকে। একটির গায়ের রঙ কালচে আরেকটি সোনালী । একটির বৈজ্ঞানিক নাম ঞড়ৎঢ়ঁঃরঃড়ৎধ অন্যটি ঞড়ঃড়ৎ। এ মাছটির প্রধান খাদ্য পাথরের ফাকে জন্মনো পেরিফাইটান শৈবাল। কার্তিক থেকে অগ্রাহায়ন মাসের পুরো সময়টা খরস্রোতা নদ গঙ্গাধরে অবস্থান করে এ মাছটি। গঙ্গাধর নদে যেটি পাওয়া যায় সেটি ঞড়ৎঢ়ঁঃরঃড়ৎধ জাতের। একসময় বাংলাদেশের নেত্রকোনার কংস নদ সুনামগঞ্জের পেরা নদী ও দিনাজপুরের মহানন্দা নদীতে এই মহাশোল মাছ পাওয়া গেলেও এখন তা বিলুপ্ত। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন জানান, মহাশোল মাছটি খরস্রোতা নদীর মাছ। মাছটি মহাবিপন্ন’র তালিকায় রয়েছে। গঙ্গাধর নদে এই মাছটি একটি নিদৃষ্ট সময়ে পাওয়া যায়। তবে পরিমানে একেবারে কম। এই মাছটি রক্ষা করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
