নাগেশ্বরীতে খানাখন্দে ভরা সড়ক ।। চলাচলে দুর্ভোগ চরমে ।। নজর নেই কর্তৃপক্ষের

হাফিজুর রহমান হৃদয়:

খানাখন্দে ভরা সোনাহাট স্থলবন্দর থেকে ঢাকাগামী মহাসড়কের কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী হেলিপ্যাড মোড় থেকে পয়ড়াডাঙ্গা পর্যন্ত ৫ কিলোমিটা রাস্তার কয়েকটি স্থান। প্রতিদিন এ সড়কে যাতায়াত করে শতাধিক দূরপাল্লার গাড়ী, অর্ধশত পাথর বোঝাই ট্রাকসহ লোকাল বাস ও লক্ষাধিক মানুষ । এ অবস্থায় ভাঙ্গা স্থানগুলোতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের এমন বেহাল অবস্থা হলেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না সড়ক বিভাগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের কোথাও দেড় ফিট খাল। কোথায় হাটু কাদা। যদিও এটি মহাসড়ক। কয়েকটি স্থানে পায়ে হেঁটে চলা দ্বায়। পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও কাজে আসছে না এসব। সড়কের খানা খন্দকসহ দু’ধারে জলাবদ্ধতা আর কাদার কারণে চলাচলে ভোগান্তির শেষ নেই লক্ষাধিক মানুষের। দেখা গেছে নাগেশ্বরী পৌর এলাকার হেলিপ্যাড মোড় থেকে সিনেমা হল খানাখন্দে ভরা। সরকারি কলেজ গেট থেকে আলিয়া মাদরাসা পর্যন্ত কোথাও দুই ফিট কোথাও দেড় ফিট গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলে যানবাহন চলাচলে সমস্যায় পড়ে মানুষ। শুরু হয় যানজটও।
এছাড়াও নাগেশ্বরী বাসস্ট্যান্ড থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর রাস্তাটির অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে যান চলাচল, সাধারণ মানুষের পথচলা এবং রোগীর হাসপাতালে যাতায়াত।
এ অবস্থায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। উল্টে পড়ছে যানবাহন। পথচারীরা হাঁটতে গিয়ে উল্টে পড়ে যান অনেক সময়। চালকরা বলছেন সড়কের কারণে গাড়ী বিকল হচ্ছে প্রায়ই। সময় ও অর্থ অপচয় হচ্ছে সাধারণ মানুষের।
পথচারী বিদ্যুৎ মিয়া, মিন্টু মিয়া, শামছুল আলম জানায় নাগেশ্বরী-ভ‚রুঙ্গামারীর এই রাস্তাটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত লাখ লাখ মানুষ চলাচল করে। অথচ এই রাস্তা এতটা খারাপ যে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করা এখন দায় হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। চলতে গিয়ে পরিধেয় পোশাক নষ্ট হয়ে যায়।
একজন বাসচালক এবং ইজবাইক চালক মতিয়ার রহমান জানায়, সড়কের যে অবস্থা তাতে গাড়ি চালাতে গিয়ে অনেক সময় এই যায়গায় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। গাড়ি বারবার নষ্ট হয়ে যায়। মাঝে মাঝে আয় রোজগার থেকে বঞ্চিত হতে হয় তাদের। তাই মহাসড়কে চলাচলে দুর্ভোগ কমাতে দ্রæত সড়ক সংস্কারের ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছন তারা।
মহাসড়কের এই অংশগুলো দ্রæত সংস্কার করার কথা জানিয়ে কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী নুরায়েন বলেন, সড়কটি পুনঃনির্মাণের কার্যক্রম শেষের দিকে। খুব শিঘ্রই এর কাজ শুরু হবে।

Share Button