পাহাড়ের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের তাগিদ পার্বত্য মন্ত্রীর

মুহাম্মদ আলী, বান্দরবান প্রতিনিধি:

পার্বত্য অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট নিরসন ও টেকসই স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্প গ্রহণ এবং চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, এমপি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে হোটেল আমারির ইডেন গার্ডেন বলরুমে ‘সুরক্ষা (SURAKKHA)’ প্রকল্পের জাতীয় শুভ সূচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তাগিদ দেন।

মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান সমস্যা সুপেয় পানি ও নিরাপদ স্যানিটেশন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অনেক মানুষকে দূর-দূরান্ত থেকে হেঁটে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপদ পানির উৎস ও শৌচাগার স্থাপন জরুরি। একই সঙ্গে পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার থেকে দূরে রেখে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, স্মার্টফোন ও গেমিংয়ে অতিরিক্ত আসক্তি কমিয়ে কিশোর-তরুণদের খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় নতুন খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পাহাড়ে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ ও বনায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং পাহাড়ের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। প্রকৃতির ক্ষতি না করে পরিকল্পিত বনায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলে সেবামূলক কার্যক্রম জোরদারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম বড় ঝুঁকি। শুধু আগাম সতর্কবার্তা প্রচার করলেই হবে না, দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে সময়মতো সহজ ভাষায় সেই বার্তা পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে সেভ দ্য চিলড্রেন, ইউরোপীয় কমিশনের মানবিক সহায়তা বিভাগ (ECHO) ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পাহাড়ে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএম) নিতাই চন্দ্র দে সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের সমাপনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্তা।

Share Button