কুড়িগ্রামের চরে বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে : সার-ডিজেলের বাড়তি খরচে দুশ্চিন্তা

জাফর আহমদ, কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা:

মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ… গাছে গাছে ঝুলছে নানা জাতের সবজি। বড় ধরনের বন্যা না হওয়ায় এবার আগাম সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে কুড়িগ্রামের পাঁচগাছী ইউনিয়নের দক্ষিণ নাওবশ এলাকায়।

কিন্তু মাঠভরা ফসলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে। সার ও ডিজেলের বাড়তি দাম… সময়মতো কৃষি উপকরণ না পাওয়া,আর বাজারে ন্যায্যমূল্য মিলবে কি না,এমন নানা দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের।

এবার এই এলাকার দুই নম্বর ওয়ার্ডে বেগুন, লাউ, পটল, ঢ্যাঁড়স, শসা, ঝিঙা, কদু ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির আবাদ হয়েছে। আল্লাহর রহমতে ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচ তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা
[কৃষকের বক্তব্যের মতো স্বাভাবিক কণ্ঠে]
কৃষক সাবু জানান, তেল ও সার সময়মতো না পাওয়ায় চাষাবাদে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। চড়া দামে কিনতে হয়েছে ডিজেল। এত কষ্টের পর ফলন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য পাবেন কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

লাউচাষি আইয়ুব আলীরও একই অবস্থা। তাঁর ভাষ্য, উৎপাদন খরচ বেশি, অথচ বাজারে লাউয়ের দাম কম। এতে লাভ তো দূরের কথা, খরচের টাকাই উঠবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, মরিচগাছে পোকার আক্রমণে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। তাঁদের অভিযোগ, কীটনাশক প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। ফলে মরিচের ফলন নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

কৃষকদের প্রশ্ন—সার, ডিজেল, কীটনাশক আর শ্রমিকের পেছনে এত টাকা খরচ করে ফসল ফলানোর পরও যদি ন্যায্যমূল্য না মেলে, তাহলে সংসার চলবে কীভাবে?

কৃষকদের দাবি, সময়মতো সার সরবরাহ, কৃষি উপকরণের মান যাচাই এবং বাজারে সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
কারণ… কৃষক বাঁচলে বাঁচবে কৃষি… আর কৃষি বাঁচলেই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

কুড়িগ্রামের পাঁচগাছী ইউনিয়নের দক্ষিণ নাওবশ এলাকায় মাঠভরা সবজি… কিন্তু কৃষকের মনে একটাই প্রশ্ন,বাম্পার ফলনের পরও কি মিলবে পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য।

Share Button