এফ কে আশিক, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট ডিগ্রি কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হয়েছে মাত্র ২০ টাকায় দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা। কলেজের ক্যানটিনে ভাত, ডাল, ডিম, ভর্তা, সবজি, মাংস ও খিচুড়িসহ বিভিন্ন খাবার পাওয়া যাবে এ দামে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ বাবুল আক্তার, ভূরুঙ্গামারী উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি ফখরুজ্জামান জেড, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ফয়জার রহমান, সোনাহাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন বেপারী, জামায়াতের আমির আব্দুল জলিলসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, সোনাহাট ডিগ্রি কলেজের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের। তাঁদের অনেকে চরাঞ্চল ও দূরবর্তী এলাকা থেকে কলেজে আসেন। সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় অনেকেই দুপুরের খাবার সঙ্গে আনতে পারেন না। ফলে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যায় পড়েন তাঁরা।
শিক্ষার্থীদের এ সমস্যার কথা বিবেচনা করে অধ্যক্ষ বাবুল আক্তারের উদ্যোগে চালু করা হয়েছে ২০ টাকার ক্যানটিন। শুরুতে প্রতিদিন ১০০ জন শিক্ষার্থীকে খাবার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী এ সংখ্যা বাড়ানো হবে। আপাতত কলেজের নিজস্ব তহবিল থেকে খাবারের ব্যয় বহন করা হচ্ছে।
চৌধুরী বাজার এলাকা থেকে কলেজে আসা শিক্ষার্থী নয়ন বলেন, ‘আগে দুপুরের খাবারের জন্য কলেজের বাইরে যেতে হতো। এখন ২০ টাকায় কলেজেই খাবার পাওয়া যাবে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচবে।’
পাইডাঙ্গা চর এলাকার শিক্ষার্থী জাকির হোসেন বলেন, দূর থেকে কলেজে আসায় দুপুরে খাবারের সমস্যা হতো। কলেজে কম দামে খাবারের ব্যবস্থা হওয়ায় পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া সহজ হবে।
নতুন হাট এলাকার শিক্ষার্থী সাথী ও মায়া বলেন, ‘দূর থেকে আসা অনেক শিক্ষার্থী দুপুরে না খেয়েই থাকে। এখন কলেজে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা চাই, এই ব্যবস্থা নিয়মিত চালু থাকুক।’
কলেজের অধ্যক্ষ বাবুল আক্তার বলেন, ‘আমাদের কলেজটি সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত এলাকায়। দুই উপজেলা ও একটি থানার বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে আসে। কেউ সাইকেলে, কেউ হেঁটে অনেক দূর থেকে আসে। অনেকেই দুপুরের খাবার সঙ্গে আনতে পারে না। না খেয়ে থাকলে ক্লাসে মনোযোগ দেওয়া কঠিন।’
অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেই ২০ টাকার ক্যানটিন চালু করেছি। এটি শুধু খাবারের ব্যবস্থা নয়, শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধের অংশ। আপাতত কলেজের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় বহন করছি। বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সহযোগিতায় এগিয়ে এলে খাবারে আমিষ ও পুষ্টির পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।’
ভূরুঙ্গামারী উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি ফখরুজ্জামান জেড বলেন, মাত্র ২০ টাকায় এক বেলা খাবারের ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের ক্ষুধা মেটানোর পাশাপাশি তাঁদের ক্লান্তি দূর করবে। পেট ভরা থাকলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আরও মনোযোগী হতে পারবেন। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের এ উদ্যোগে পাশে দাঁড়ানো উচিত।
সোনাহাট ডিগ্রি কলেজে দুই উপজেলা ও একটি থানার ৯০০ শতাধিক বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন।
