জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা:
উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। যদিও এখনো জেলার সব নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবে পানি বাড়তে থাকায় নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নদীতীরবর্তী জনপদে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কুড়িগ্রাম কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৪ জুন) দুপুর ১২টা পর্যন্ত ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তিস্তা নদীর পানি প্রায় স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
পাউবোর তথ্যমতে, কুড়িগ্রাম সদর সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ১১৯ সেন্টিমিটার নিচে এবং ফুলবাড়ী উপজেলার তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ৮৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভুরুঙ্গামারীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানি বিপদসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
অন্যদিকে চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ১২৬ সেন্টিমিটার নিচে এবং নাগেশ্বরীর নুনখাওয়া পয়েন্টে ১৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২৯ সেন্টিমিটার নিচে এবং ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার নিচে থাকায় নদীটি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।
তবে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নভূমিতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। অনেক স্থানে ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
এদিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনের খবর পাওয়া গেছে। নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে অসংখ্য বসতভিটা, আবাদি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ফলে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। অনেক পরিবার তাদের দীর্ঘদিনের বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চোখের সামনে নদীর স্রোতে ভেঙে যাচ্ছে তাদের প্রিয় বসতভিটা ও ফসলি জমি। অসহায় হয়ে তা দেখা ছাড়া যেন আর কিছুই করার নেই। নদীভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর মধ্যে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নদীর পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনের দ্বৈত সংকটে কুড়িগ্রামের হাজারো মানুষের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হলেও এখনো বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তবে উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই সম্ভাব্য বন্যা ও নদীভাঙন মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
