রৌমারীর কোরবানির হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কোরবানির পশুর হাটে সরকার নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গরু-ছাগল বিক্রিতে প্রকাশ্যে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। এ ঘটনায় ক্ষোভ বিরাজ করছে ক্রেতা-বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।
জানা গেছে, রৌমারী উপজেলা শহরের রৌমারী হাটটি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রৌমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে শাকিল আহমেদের নামে ইজারা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৬ কোটি টাকায় ইজারা নেওয়া এ হাটের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক নিজেই।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী গরু, মহিষ ও ঘোড়ার হাসিল ৫০০ টাকা এবং ছাগল-ভেড়ার হাসিল ২৫০ টাকা নির্ধারিত। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, রৌমারী হাটে গরুপ্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং ছাগল-ভেড়ায় ৪০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ আড়াল করতে অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের ফাঁকা রশিদ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
হাটে গরু বিক্রি করতে আসা কয়েকজন ব্যাপারী অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের সামনেই অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হলেও তা সাময়িক। অভিযান শেষ হলেই আবার আগের মতো অতিরিক্ত হাসিল আদায় শুরু হয়।
শুক্রবার হাটে ছাগল কিনতে আসা উপজেলার চাক্তাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “সরকারিভাবে ছাগলের হাসিল ২৫০ টাকা হলেও আমার কাছ থেকে ৪০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করার সুযোগ নেই।” আরেক ক্রেতা আবুল কাশেম বলেন, “৫০০ টাকার জায়গায় ৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটা সাধারণ মানুষের সঙ্গে অন্যায়। প্রশাসন সব জানার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।” এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের মৌখিক সম্মতির কারণেই ইজারাদাররা অতিরিক্ত হাসিল আদায়ে সাহস পাচ্ছে। গত ১২ মে অনুষ্ঠিত মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় সাংবাদিকরা বিষয়টি উত্থাপন করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন নাকি বাড়তি হারে হাসিল আদায়ের বিষয়ে আলোচনা করেন। পরে ইজারাদাররা আরও বেশি টাকা আদায় শুরু করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন,
“গরুর হাসিল ৬০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, ৮০০ নয়। কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না যে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে।”
ফাঁকা রশিদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,
“জেলার অন্য হাটেও খোঁজ নেন। আমরা চেষ্টা করছি যাতে জনভোগান্তি না হয়।”
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন,
“অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। অতিরিক্ত টাকা আদায় না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
“হাসিল বেশি আদায়ের অভিযোগ আমিও পেয়েছি। বিষয়টি বন্ধে ইউএনওকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত হাসিল আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Share Button