কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা, পানি নিষ্কাশনের সংকট ও কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ার দুর্ভোগে থাকা কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়ন-এর আরাজী পলাশবাড়ী এলাকার মানুষের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। অবশেষে সরকারি উদ্যোগে প্রায় ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৫৫ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে বদলে যাবে পুরো এলাকার চিত্র। জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্য চাষের প্রসার এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।
আগামীকাল রবিবার দুপুরে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন আসাদুল হাবিব দুলু। প্রকল্পের আওতায় আরাজী পলাশবাড়ী মৌজার দাশেরহাট ছড়া থেকে এসিল্যান্ড সংযোগ খাল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে।
জানা গেছে, খাল পুনঃখননে শ্রমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ লাখ ৬২ হাজার ৪০ টাকা। এ কাজে ১১৯ জন শ্রমিক টানা ৪০ দিন কাজ করবেন। এছাড়া ২৫ লাখ ৯১ হাজার ৯৫৫ টাকা ব্যয়ে তিনটি কালভার্ট নির্মাণ, ভেকুর মাধ্যমে মাটি কাটা, বৃক্ষরোপণ, লেভেলিং ও ড্রেসিংয়ের কাজ সম্পন্ন করা হবে। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শুরু ও শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী আয়োজনকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন ইসমাইল হোসেন, শফিকুল ইসলাম বেবু, জসিম উদ্দিন, রেজাউল করিম রেজা, কালবেলা জেলা প্রতিনিধি সাইয়েদ আহমেদ বাবুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন, “এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে। কৃষকের জমিতে পানি চলাচল স্বাভাবিক হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সরকার জনস্বার্থে টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।”
জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল খালটি পুনঃখননের। বর্ষা এলেই কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যেত, মানুষের দুর্ভোগ বাড়ত। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এলাকার কৃষি, যোগাযোগ ও পরিবেশ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। আমরা চাই, কাজ যেন স্বচ্ছতা ও গুণগত মান বজায় রেখে সম্পন্ন হয়।”
স্থানীয়রা মনে করছেন, বহু প্রতীক্ষিত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শুধু জলাবদ্ধতাই দূর হবে না, বরং আরাজী পলাশবাড়ী এলাকার অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায়ও নতুন গতি ফিরবে।
