কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
২০২৫ সালের বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষে কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায় অনুষ্ঠিত হলো এক বর্ণাঢ্য স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম। বুধবার (২৮ মে) দুপুরে উপজেলার বেরুবাড়ী ইউনিয়নের সবুজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই আয়োজন করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, সহযোগিতায় ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের হাতে দুধ ও কলা তুলে দিয়ে স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের শুভ উদ্বোধন করেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক নুশরাত সুলতানা। তিনি বলেন, “পুষ্টিসমৃদ্ধ জাতি গঠনে শিশুদের জন্য দুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুধ শুধু শরীর গঠনেই সাহায্য করে না, বরং বুদ্ধি ও মননের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকারের ‘সবার জন্য পুষ্টি’ অর্জনে স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চালিয়ে যেতে হবে।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, “বিশ্ব দুগ্ধ দিবসের মূল বার্তা হলো—দুধের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে দুধ একটি পরিপূর্ণ খাদ্য। প্রাণিসম্পদ দপ্তর শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে এমন কার্যক্রম গ্রহণ করছে।”
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু বক্কর সিদ্দিক তার বক্তব্যে বলেন, “আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে হবে আমাদেরকেই। এই ধরনের স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম শিশুদের মাঝে খাদ্য সচেতনতা ও পুষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিব্বির আহমেদ বলেন, “শুধু এক দিনের কর্মসূচি নয়, এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজন করতে পারলে শিশুদের পুষ্টিহীনতা অনেকাংশে কমে আসবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে এমন উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।”
অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহিদুল ইসলাম, বিআরডিবি কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ময়দান আলী, প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কোকিল চন্দ্র বিশ্বাস,এলএসপি আশরাফুল আলম ও জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
তারা বলেন, গ্রামীণ শিশুদের পুষ্টি ঘাটতি পূরণে স্কুল ফিডিং একটি কার্যকরী উদ্যোগ। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত দুধ সহজলভ্য করে তোলা এবং শিশুর খাদ্যাভ্যাসে তা অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা দুধ ও কলা হাতে পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়ে। তারা একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করে।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে উপজেলার অন্যান্য বিদ্যালয়েও এ ধরনের স্কুল ফিডিং কার্যক্রম বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্ব দুগ্ধ দিবস প্রতি বছর ১ জুন পালন করা হলেও বিভিন্ন দেশে বা অঞ্চলে সুবিধাজনক সময়ে এটি উদযাপন করা হয়। কুড়িগ্রামে এই আয়োজন শিশুদের মাঝে পুষ্টির গুরুত্ব ও দুধের উপকারিতা নিয়ে সচেতনতা বাড়াবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
