লেখা: আতিকুর রহমান
তুমি কোথায় চলে গেলে,
তুমি কোথায় হারালে নিজেকে?
তোমার যাওয়ার শব্দটুকুও
আমার কানে পৌঁছাল না কেন!
আচমকা ঝড়ের মতো এলে,
আবার তেমনি করেই হারিয়ে গেলে—
একবারও ফিরে তাকালে না!
একবারও বললে না,
“আমি যাচ্ছি…”!
আমি তো ভেবেছিলাম,
তুমি আমার হবে,
চিরকাল, অনন্তকাল।
আমার সুখ-দুঃখের, হাসি-কান্নার
সহযাত্রী হবে তুমি।
তুমি ছিলে আমার সকালবেলার সূর্য,
দুপুরের দীপ্তি, সন্ধ্যার কুয়াশা—
রাতের ঘুমহীন নির্জনতার একমাত্র সঙ্গী।
তোমার একটুখানি হাসি
পুরো দিনটাকে উজ্জ্বল করত।
তোমার একটি মনের কথা
চুপচাপ হৃদয়ে রেখে দিতাম
বুকের গহীনে।
কিন্তু এখন!
তুমি নেই,
তোমার ছায়াটুকুও নেই।
শুধু রয়ে গেছে কিছু অসমাপ্ত কথা,
অপ্রকাশিত ভালোবাসা,
ভাঙা স্বপ্নের কাঁচচূড়া।
নিজেকেই বড় বেশি ফাঁকা মনে হয়।
আয়নায় তাকালে
নিজেকে চেনা যায় না আর।
তুমি ছাড়া এই আমি
অচেনা, অনিশ্চিত, অস্পষ্ট!
তুমি বললে না কেন?
তুমি কি বুঝতে পারোনি
তোমার একটুখানি অনুপস্থিতি
আমার গোটা জীবনকে এলোমেলো করে দেবে?
মানুষ যে এতটা নির্মম,
এতটা স্বার্থপর—
তা তোমাকে না দেখলে জানতাম না!
তুমি চাইলে থাকতে পারতে,
তোমার একটা “থাকি” বললেই,
আমি পুরো জীবনটা সাজিয়ে নিতাম তোমার চারপাশে।
তবু তুমি গেলে।
আমাকে একা রেখে,
নিঃসঙ্গতার জালে জড়িয়ে দিলে।
আমার রাত এখন দীর্ঘতর,
দিনগুলো নিরুত্তাপ,
ভালোবাসা—
শুধু একটি অতীত নামক ফ্রেমে আটকে গেছে।
জানো, আজও পথ চেয়ে থাকি।
হয়তো তুমি একদিন ফিরবে ভেবে—
হয়তো বলবে,
“ভুল করেছিলাম, ফিরতে চাই।”
কিন্তু তার আগে—
জেনে রেখো,
এখানে কেউ একজন,
আজও প্রতিটি নিশ্বাসে তোমার নাম ভাসিয়ে বেঁচে আছে।
চোখে জল, মনে আশা—
তুমি ফিরবে,
হয়তো আর একবার!
