ঢাবিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদার করা হয়েছে

নয়া খবর ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং স্যার এ এফ রহমান হলের ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ডের পর ক্যাম্পাসজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বেশকিছু পদক্ষেপ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে চুরি রোধে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে সাইকেল চুরির ঘটনার পর একজন নিরাপত্তা প্রহরীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।মল চত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২২ জন নিরাপত্তাকর্মীকে তিনটি শিফটে ভাগ করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি শিফটে ৬-৭ জন কর্মী দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিষফোঁড়া’ হয়ে ওঠা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এরই মধ্যে চালানো হয়েছে ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদ ও ভাসমান জনগোষ্ঠী সরানোর অভিযান। সেখানে প্রতিদিনই পরিচালিত হচ্ছে মাদকবিরোধী অভিযান। উদ্যানজুড়ে বসানো হয়েছে ২৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং পর্যাপ্ত আলোর জন্য স্থাপন করা হয়েছে ৮৫টি বাতি। উদ্যানের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে আনসার সদস্যের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪০ জন করা হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থী সাইফ জাওয়াদ সামি বলেন, সাম্য হত্যার পর ক্যাম্পাসে প্রক্টরিয়াল প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। ভাসমান জনগোষ্ঠীর উচ্ছেদ, আনসার সদস্যের সংখ্যা বাড়ানো, উদ্যান ঘিরে দেয়াল নির্মাণসহ বেশকিছু কার্যকর পদক্ষেপ আমাদের প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়িয়েছে। তবে বহিরাগতদের প্রবেশ আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রতিদিনই পরিচালিত হচ্ছে মাদকবিরোধী অভিযান। উদ্যানজুড়ে বসানো হয়েছে ২৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং পর্যাপ্ত আলোর জন্য স্থাপন করা হয়েছে ৮৫টি বাতি। উদ্যানের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে আনসার সদস্যের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪০ জন করা হয়েছহিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সালমান খান বলেন, ভ্রাম্যমাণ বহিরাগতরা ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করছে। এতে বিশেষত নারী শিক্ষার্থীরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছে। প্রশাসনের বর্তমান পদক্ষেপ অবশ্যই প্রশংসনীয়, তবে আরও আগে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল। নিয়মিত তল্লাশি ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা সম্ভব।

আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহান আহমেদ বলেন, প্রক্টরিয়াল টিমের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে এবং স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষার্থীদেরও যুক্ত করা হয়েছে নিরাপত্তা রক্ষায়। ক্যাম্পাসে বহিরাগত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, তবে ভবঘুরে ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের উচ্ছেদে প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়া দরকার। আমরা আর কোনো সাম্যকে হারাতে চাই না।গত ১৩ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় ছুরিকাঘাতে আহত হন সাম্য। রাত ১২টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সাম্য ঢাবির শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এফ রহমান হলের আবাসিক এই শিক্ষার্থীর বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত সাম্য এফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন।আমাদের পদক্ষেপ আগে থেকেই চলমান ছিল, এখন সেটা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে ১৩৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, কিছু নষ্ট ক্যামেরাও শিগগির প্রতিস্থাপন করা হবে। বিএনসিসিকে প্রক্টরিয়াল টিমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।- ঢাবি প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ

ঢাবি প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের পদক্ষেপ আগে থেকেই চলমান ছিল, এখন সেটা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে ১৩৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, কিছু নষ্ট ক্যামেরাও শিগগির প্রতিস্থাপন করা হবে। বিএনসিসিকে প্রক্টরিয়াল টিমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলাচলের জন্য নির্ধারিত রিকশা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেগুলো শুধু ক্যাম্পাসে চলবে। বাইরের রিকশাগুলো তখন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না।

Share Button