মোঃ জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ
সামান্য বৃষ্টিতে যদি একটি শহরের হৃদয় ডুবে যায়, তবে সেই শহরের পরিকল্পনায় যে ফাঁক রয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কুড়িগ্রাম শহর এ যেন এক নির্মম বাস্তবতার নাম, আকাশে বৃষ্টি আসলেই পানিও কাদা মাটিতে থেমে যায় জনজীবন। সরকারি ভবনের প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে শহরের মূল সড়ক—সবই একাকার হয়ে যায় বৃষ্টির পানিতে।
ছবিগুলো বলছে, ‘জেলা প্রশাসকের কার্যালয়’, ‘টিসিবি অফিস’ কিংবা শহরের প্রাণকেন্দ্র ঘোষপাড়া থেকে হাসপাতাল রোড এবং হিঙ্গনরায় হাটির পাড়ের প্রত্যেকটি গলি সহ পৌর এলাকার কোথাও স্বাভাবিক ভাবে চলাচলের উপায় নেই। শিশু সাইকেল নিয়ে ঠেলে যাচ্ছে, মানুষ হাঁটু সমান পানিতে হেঁটে যাচ্ছে অফিসে, কেউ কেউ আবার মোটরসাইকেল নিয়ে দুর্ভোগ ঠেলে পেরোচ্ছে সেই জলমগ্ন পথ।
এই চিত্র নতুন নয়—প্রতি বর্ষায় শুধু নয় একটু বৃষ্টি হলে কুড়িগ্রাম যেন স্মরণ করিয়ে দেয় নগর পরিকল্পনার ব্যর্থতা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দৈন্যতা এবং নাগরিক অধিকার হরণের করুণ বাস্তবতা।
প্রশাসনের চোখ বন্ধ থাকলেও বৃষ্টির ফোঁটা যেন বারবার আঙুল তোলে সেই ব্যর্থতার দিকে। উন্নয়নের প্রচার যতই হোক না কেন, একটি শহর যদি বর্ষায় থেমে যায়, তবে সেই উন্নয়ন কাগজে লেখা সংখ্যার বেশি কিছু নয়।
প্রশ্ন জাগে—এই পানিবন্দি শহর কি কেবল প্রকৃতির খামখেয়াল? নাকি দীর্ঘদিনের গাফিলতি, অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে পরিচালনা করার ফল?
কুড়িগ্রামের মানুষ আর সহ্য করতে চায় না। তারা চায় কার্যকর ড্রেনেজ, পরিকল্পিত নগরায়ন ও জনবান্ধব ব্যবস্থা। এক টুকরো বৃষ্টি যেন আর তাদের জীবনের গতি থামিয়ে না দেয়।
আগের ড্রেনেজের নতুন করে মেরামত না করে ফেলে কেরে আবার নতুন করে তামাশার করেছে ড্রেনের উপর উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে।
