রফিকুল ইসলাম স্বপন, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সম্ভাব্য ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রার্থী ডা. রোকনুজ্জামান কিরনের বসতবাড়িতে লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ভুক্তভোগী ডা. রোকনুজ্জামান কিরন উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়নের শিংঝাড় (নয়াপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, গত ২৪ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি পরিবারসহ রংপুরে অবস্থান করছিলেন। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা তাঁর বাড়ির মূল দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে মূল্যবান মালামাল লুট করে এবং শয়নকক্ষসহ বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
বাড়ির দেখভালের দায়িত্বে থাকা আলেফ উদ্দিন বলেন, ২৬ এপ্রিল রাতে আকাশ খারাপ থাকায় তিনি সব কিছু বন্ধ করে রাত ১২টার দিকে বাড়ি চলে যান। পরদিন সকাল ১০টার দিকে ধান মাড়াইয়ের শ্রমিকেরা বাড়িতে এসে ভেতরে ধোঁয়া দেখতে পেয়ে তাঁকে খবর দেন। পরে তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানান। এলাকাবাসী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর এলাকায় ফিরে ডা. কিরন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে বড় ধরনের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, আগুনে ঘরের নিচতলার প্রায় সবকিছুই পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মালামালের মধ্যে রয়েছে প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ প্রায় ১৩ লাখ টাকা, হীরার গহনা, ল্যাপটপ, ড্রোন, ক্যামেরা, মোবাইল ফোন, আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভূরুঙ্গামারী থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগী নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। শত্রুতাবশত তাঁকে আতঙ্কিত করতে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।
