জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা:
কুড়িগ্রামে জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ-কে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। একটি অজ্ঞাতনামা পেজ থেকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে প্রচারিত পোস্টকে ‘মানহানিকর অপপ্রচার’ আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কুড়িগ্রামের রাজারহাট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
জানা গেছে, “Rajarhat Narrative” নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে সম্প্রতি একটি ছবি পোস্ট করে দাবি করা হয়—কারাবন্দি এক র্যাব কর্মকর্তার জামিনে তদবির করছেন বিএনপি নেতা সোহেল কায়কোবাদ। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো ধরনের প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ছবিটি মূলত নির্বাচনি প্রচারণার সময় জনসংযোগকালে তোলা বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় দলীয় ও ব্যক্তিগত মর্যাদাহানির অভিযোগ তুলে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম সোহেল কায়কোবাদের পক্ষে রাজারহাট থানায় জিডি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ।
ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, নির্বাচনি প্রচারণার সময় তিনি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ভোট চেয়েছেন এবং সে সময় বহু মানুষের সঙ্গে ছবি তুলেছেন। “একজন প্রার্থীর কাছে সব ভোটারই সমান। কে কার আত্মীয় বা কোন দলের—এসব বিবেচনা করে জনসংযোগ করা সম্ভব নয়,”—বলেন তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুরনো ছবি ব্যবহার করে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে তার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।
তিনি জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে কয়েকজন সন্দেহভাজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাইবার ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার প্রস্তুতিও চলছে বলে জানান তিনি।
এদিকে রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, অভিযোগটি সাইবার অপরাধ সংশ্লিষ্ট হওয়ায় জিডি নথিভুক্ত করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে।
এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার বন্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, নচেৎ এ ধরনের অপপ্রচার ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে।
