নয়া খবর ডেস্ক:
দুধকুমার নদের ভাঙনে বিলিন হচ্ছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের দামালগ্রাম ফান্দের চর এলাকার বসতবাড়ি ও আবাদী জমি। গত এক মাসে এ নদের ভাঙনে আবাদি জমিসহ ঘরবাড়ি ও সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে অনেক পরিবার। ইতোমধ্যে অন্তত ১৬টি পরিবার হারিয়েছে তাদের ভিটেমাটি। ঘরবাড়ি হারিয়ে তারা আশ্রয় নিয়েছেন অন্যের বাড়িতে। অনেকের বাড়ি ভাঙনের মুখে পড়ায় সরিয়ে নিচ্ছে অন্যত্র।
এছাড়াও হুমকির মুখে রয়েছে মসজিদ, বসতবাড়ি ও ফসলী জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। একদিকে দুধকুমারের ডানতীর রক্ষার বাঁধ প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও তা কচ্ছপ গতিতে এগুচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অপরদিকে বামতীরে দেখা দিয়েছে ভায়াবহ ভাঙ্গন। এ অবস্থায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন ভাঙন কবলিত এলাকার বাসীন্দারা। ভাঙন রক্ষায় দ্রæত পদক্ষেপ না নিলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবার আসঙ্কায় রয়েছেন দামালগ্রামের ফান্দেরচর এলাকাবাসী।
ওই এলাকার ভাঙ্গনের শিকার রুহুল আমিন, আব্দুল করিম, মাহাম আলী, সুজাব মন্ডল, হবিবর মন্ডল, মদিনা মিয়া, সেকেন্দার আলি, আজিজ আলি, আফজাল হোসেন, শুকুর আলি, আসমত আলি, গোলাম মোস্তফা, মকবুল হোসেন, জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই চরে বসবাস করে আাসছেন। হঠাৎ করে দুধকুমার নদের ভাঙনে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু হারিয়ে এখন বহু কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। প্রতিদিন যেভাবে নদী ভাঙছে তাতে এই গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। ভিটেমাটি হারিয়ে এখন দিশাহারা তারা। খেয়ে না খেয়ে থাকলেও এখন কেউ খোঁজ খবরও রাখেন না তাদের। জাহির আলি, মতি মিয়া, ফরিদুল ইসলাম জানান, গত কয়েকদিনে তাদের বসত ভিটাসহ গাছগাছালি নদের পেটে গেছে। এছাড়া আবাদী জমিও চলে গেছে নদের পেটে। এখন তারা নিঃস্ব। অনেকে জানান নদের ভাঙনে ঘরবাড়ি চলে গেছে সাথে চলে গেছে নিত্য প্রয়োজনিয় জিনিসপত্র। সকল প্রকার নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত বলেও জানান চরাঞ্চলের এসব মানুষ।
কুড়িগ্রাম পানিউন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, দুধকুমার নদের ভাঙন রোধে মূল ভূ-খন্ডের অংশে প্রকল্প চলমান থাকলেও চরাঞ্চল রক্ষায় কোন প্রকল্প নেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে। তবে ওই চরাঞ্চলের জনগণের দাবীর বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রস্তাবনা আকারে পাঠানো হয়েছে।
