হাফিজুর রহমান হৃদয়:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর চরাঞ্চল এখন ডাল জাতীয় ফসলের ভান্ডার। ভালো ফলন আর দামেও খুশি চরাঞ্চলের ডাল চাষিরা। উপজেলার দুধকুমার নদের চরাঞ্চলসহ বেশকিছু চর ঘুরে দেখা গেছে বিস্তির্ণ মাঠ জুরে ডাল জাতীয় শস্যের সবুজ সমারহ। যেনো ডাল নয়, সোনা ফলিয়েছে কৃষকরা। এসব ডাল শষ্যের মধ্যে রয়েছে মাষ কলাই, শুল্টি, মশুর,মুগ, মটর ও খেসারী। উপজেলার কেদার, বল্লভেরখাষ, কচাকাটা, নারায়ণপুর, কালিগঞ্জ, নুনখাওয়া, বামনডাঙ্গা, রায়গঞ্জ, বেরুবাড়ী ইউনিয়নের চরাঞ্চলগুলোতে চাষ হয়েছে ডাল জাতীয় এসব ফসল।
কৃষকরা বলছেন এ বছর বন্যা পরবর্তী সময়ে চরে পলি জমে ডাল চাষের জন্য উপযোগী হয়েছে। এছাড়াও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় পোকামাকরের আক্রমণও হয়েছে তুলনামূলক কম। তাই ডাল জাতীয় এসব ফসলের চাষাবাদ হয়েছে ভালো। এমনকী ডালের দানাও হয়েছে পরিপুষ্ট। কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে ডাল উত্তোলনের কাজও। তাই ডাল ফসলের কাটামাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চারাঞ্চলের কৃষকরা। ডাল চাষিরা জানায় এ বছর প্রকার ভেদে প্রতি বিঘায় ৪ থেকে ৬মণ পর্যন্ত ডাল ফসল পাওয়া যাচ্ছে। প্রকার ভেদে প্রতি মণ শষ্য ২হাজার থেকে সাড়ে ৩হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত বলেও জানান তারা। কৃষকদেও অভিযোগ যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে পারেন না তাদের উৎপাদিত ফসল। আর পরিবহন খরচও পরে বেশি। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে আরও বেশি দামে ফসল বিক্রি করতে পারতেন তারা।
কচাকাটা ইউনিয়নের আবু বক্কর জানান, তিনি ৬ বিঘা জমিতে এবার মাষ কলাই চাষ করেছেন। বীজ, হালচাষ, সার সবমিলে বিঘে প্রতি ১২শ টাকা খরচ হয়েছে তার। মাড়াই শেষে চার মণ কালাই পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে মাষ কালাই মণ প্রতি ২৮’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো লাভের মুখ দেখবেন তিনি। একই এলাকার সুজলা রহমান জানান তিনি এবার ২বিঘা মাষকালাই ও দুই বিঘা শুল্টি কালাই চাষ করেছেন। কাটা মাড়াই শুরু হয়েছে। ভালো লাভের প্রত্যাশা করছেন তিনি। বর্গা চাষী খোদেজা বেগম জানায়, এবার ১০ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে শুল্টি ডাল চাষ করেছিলেন তিনি। আবাদও ভালো হয়েছিলো কিন্তু গঙ্গা ধরের ভাঙনে অর্ধেক জমি ফসলসহ নদের গর্ভে চলে গেছে। তারপরেও মুলধন উঠবে তার। কালিগঞ্জ ইউনিয়নের কুমেদপুর এলাকার কৃষক আল মামুন জানান, তার এলাকায় দুধকুমার নদের বিস্তৃর্ণ চরাঞ্চলে ব্যপকভাবে চাষ হয়েছে ডাল শষ্য। এবার চরাঞ্চলের জমি পতীত পড়ে নেই। এসব শষ্য কাটা-মাড়াই নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে প্রতিটি কৃষক পরিবার।
নাগেশ্বরী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায় এবার লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি ডাল জাতীয় ফসলের চাষ হয়েছে। এ সবের মধ্যে মাষ কলাই ২’শ ৭৫ হেক্টর মসুর ১’শ ৯৫ হেক্টর, খেষারী ১’শ ৫০ হেক্টর, মুগ ১’শ ৩৫ হেক্টর, শুল্টি ১০ হেক্টর এবং মটর ৬ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।
নাগেশ্বরী উপজেলা কৃষি অফিসার শাহরিয়ার হোসেন জানান, এবার উপজেলায় ডাল জাতীয় ফসল চাষের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সব ধরণের ডাল শষ্যের ফলন ভালো হয়েছে। ডাল শষ্য চাষে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।
