স্টাফ রিপোর্টার:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নেওয়াশী ইউনিয়নে জাতীয়পার্টির চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন সরকারকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামীলীগ প্রার্থী মাহফুজার রহমান মুকুলের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় জাতীয়পার্টির কর্মী-সমর্থকরা প্রতিবাদ মিছিল করে ইউএনও বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। আওয়ামীলীগ প্রার্থী অভিযোগ করছেন জাতীয়পার্টির প্রার্থী আওয়ামীলীগের নির্বাচনি সভার পাশে এসে মোটরসাইকেলের সাউন্ড বাড়িয়ে দিয়ে গালিগালাজ করায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয়পার্টির প্রার্থী অভিযোগ করেন, শনিবার রাতে ইউনিয়নের বালাটারি যাওয়ার পথে পন্তাবাড়ি পার হয়ে নেওয়াশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে আমার উপর অতর্কিত হামলা করে আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা। আমাকে বেধম মারপিট করে। কয়েকটি গাড়ী ভাংচুর করে। পরে তিনি নাগেশ^রী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। রোববার সকালে ইউনিয়নের হাজারের বেশি ভোটার মিছিল নিয়ে থানার পাশে ডিএম একাডেমি ফুটবল মাঠে অবস্থান নেয়। সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর আহমেদ মাছুমকে স্মারকলিপি দেন তারা। এ সময় প্রার্থী আমজাদ হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামীলীগের প্রার্থী মাহফুজার রহমান মুকুল জানান, বিদ্যালয়ের পাশে নৌকার মার্কার নির্বাচনি সভা চলছিল। উপজেলা থেকে আসা নেতৃবন্দ সেখানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন তার লোকজন নিয়ে এসে সেখানে মোটরসাইকেলের পিকআপ বাড়িয়ে দিয়ে শব্দ বাড়ায় এবং হর্ণ দেয়। পরে ছেলেরা উত্তেজিত হলে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে মারপিট হয়।
নাগেশ^রী থানার ওসি তদন্ত পলাশ চন্দ্র মন্ডল জানান, রাতে জাতীয়পার্টির প্রার্থী থানায় এসে বিষয়টি জানিয়েছেন। দিনের বেলা থানার পাশে মাঠে লোকজন বিক্ষোভ করেছে। ইউএনওকে স্মারকলিপি দিয়েছে। লিখিত অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নাগেশ^রী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর আহমেদ মাছুম জানান, জাতীয়পার্টির লোকজন স্মারকলিপি দিয়েছে। সেটি ওসিকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছে। এ ঘটনার সরাসরি আইনের ধারা রয়েছে। তারা মামলা করলে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেবে পুলিশ প্রশাসন।
গত ২৮ নভেম্বর নেওয়াশী ইউনিয়নে ভোট গ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী এন্তাজ আলী মারা গেলে ভোট স্থগিত হয়। পরে ২৬ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন। এখানে প্রয়াত এন্তাজ আলীর স্ত্রীসহ ৫জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।
