নয়া খবর ডেস্ক:
বিয়ের দুই দিনের মাথায় বরের ভগ্নিপতি কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক গৃহবধূ। আর এতে সহযোগিতা করেছে স্বয়ং ওই স্বামী। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই স্বামী এখন কারাগারে। ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের সরকারটারি গ্রামে।
নববধূর পরিবারের অভিযোগ, ওই নববধুর চাচার ফাঁকা বাড়িতে তাকে নিয়ে চোখ বেঁধে ধর্ষণ করেছে স্বামীর ভগ্নিপতি বাবু মিয়া (৩০)। এ সময় স্বামী আব্দুল হাকিম (২০) উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ তাদের। গত মঙ্গলবার (২৫ মে) সকাল ১১টার দিকে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
পরে ধর্ষণের শিকার নববধূ পরিবারকে ঘটনাটি জানালে বুধবার (২৬ মে) দুপুরের দিকে নববধূর বড় ভাই বাদী হয়ে ভগ্নিপতি বাবু মিয়া এবং ধর্ষণে সহযোগিতা করার জন্য স্বামী আব্দুল হাকিমকে আসামি করে কচাকাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর বিকেলের দিকে স্বামী আব্দুল হাকিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ভগ্নিপতি বাবু মিয়া বর্তমানে পলাতক রয়েছে। ওইদিন বিকালে ভিকটিমকে উদ্ধার করে কচাকাটা থানার ভিকটিম সার্পোট সেন্টারে রাখা হয়।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২৩ মে) নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের সরকারটারি গ্রামের ১৮ বছর বয়সী যুবতীর সাথে একই উপজেলার কেদার ইউনিয়নের শিপেরহাট গ্রামের লাল দেওয়ানীর পুত্র আব্দুল হাকিমের বিয়ে হয়। ঐদিন রাতে নববধূকে সাথে নিয়ে নিজ বাড়িতে আসে আব্দুল হাকিম। পরদিন সোমবার (২৪ মে) সন্ধ্যার দিকে স্বামীকে সাথে নিয়ে ওই নববধূ তার বাবার বাড়িতে যান। তাদের সাথে যান স্বামী আব্দুল হাকিমের ভগ্নিপতি এবং একই ইউনিয়নের চাটাম শোভারকুটি গ্রামের জালাল মিয়ার পুত্র বাবু মিয়া। পরদিন মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে পার্শ্ববর্তী ওই নববধূর চাচার ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে একটি ঘরে চোখ বেঁধে স্বামীর উপস্থিতিতে এবং সহযোগিতায় ধর্ষণ করে সটকে পড়ে বাবু মিয়া। এ অবস্থায় বাড়িতে এসে ঘটনাটি পরিবারের লোকজনকে জানালে এই মামলা দায়ের করা হয়।
কচাকাটা থানার ওসি মো. মাহাবুব আলম জানান, ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বৃহস্পতিবার (২৭ মে) সকালে জেলা সদরের জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত স্বামী আব্দুল হাকিমকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে পলাতক আসামি বাবুকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
