ফুলবাড়ী(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
করোনা ভাইরাসের বিষাদময় পরিস্থিতিতে বন্ধ রয়েছে দেশের প্রায় সকল প্রকার সরকারি, বে-সরকারি, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এতে পেশা টিকিয়ে রাখতেই হিমশিম খাচ্ছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার মাইক ও ডেকোরেটর ব্যবসায়ীরা।
উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকান খোলা থাকলেও নেই কাজের ব্যস্ততা। সকালে এসে দোকান খুলে বসে থেকে আবার সন্ধ্যায় বাড়ীতে ফিরে যান। দিন শেষে হিসাবের খাতা শূন্য। একদিকে বন্ধ রয়েছে আয়, অন্যদিকে বাড়ছে ব্যয়। শেষ হয়ে যাচ্ছে সঞ্চয়। ফলে সংকটময় দিন পার করছেন এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার।
উপজেলায় প্রায় অর্ধ শতাধিক ছোট বড় মাইক ও ডেকোরেটর ব্যবসায়ীসহ শতাধিক শ্রমিক এ কাজের সাথে জড়িত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে রোজগার না থাকায় অসহায় অবস্থায় দিন যাপন করছেন তারা। সরকারিভাবে একবার ত্রাণ দিলেও তা নামমাত্র। তাই সরকারি আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন উপজেলার মাইক ও ডেকোরেটর ব্যবসায়ীরা।
উপজেলার খড়িবাড়ি বাজারের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসায়ী দীপক সরকার, অনিল চন্দ্র রায়, নাওডাঙ্গা পুলেরপাড়ের সাথী সাউন্ড ও ডেকোরেটর মালিক সোহেল রানা জানান, করোনাকালীন লকডাউনে আমাদের দোকান পুরোপুরিভাবে বন্ধ ছিলো। বর্তমানে দোকান খুললেও করোনার কারণে ব্যবসা চলছে না। আমাদের পরিবার এই ব্যবসার উপর চলে। তাছাড়া আমাদের দোকানে তিন/চার জন করে কর্মচারী আছে। তাদেরও বেতন দিতে পারছেন না। দোকানমালিক কর্মচারীসহ সকলে মিলে পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাই সরকারের কাছে সহযোগিতা চান তারা।
ডেকোরেটর ও মাইক শ্রমিক নূরনবী জানান, আমি এই কর্ম করে পরিবার চালাই এই কাজ ছাড়া আমি অন্য কোন কাজ জানি না সরকার যদি আমাদের মত গরীব কে একটু সাহায্য করতো তাহলে খুবই ভালো হতো।
ফুলবাড়ী বাজারের মাইক ও ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম জানান, করোনার কারণে দীর্ঘ চার মাস ধরে আমাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে আছে।আমার দোকানে আট থেকে দশজন লোক কাজ করে এছাড়া এই ব্যবসা থেকে আমার পরিবার চলে। আমার দোকানের মাল সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কোনো ব্যবসা করতে পারছি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন উনি যেন আমাদের একটু আর্থিক অনুদান প্রদানের ব্যবস্থা করেন।
এব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী অফিসার তৌহিদুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সহয়তা অব্যাহত রয়েছে। আর্থিক সহোয়েগীতার বিষয়ে নির্দেশনা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
