নাগেশ্বরীতে মুক্তিযোদ্ধার ধানক্ষেত পুড়িয়ে দিলো প্রতিপক্ষ।। নেপথ্যে জমি সংক্রান্ত জের

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে জমি সংক্রান্ত জেরে এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লাগানো ৬বিঘা জমির ধানক্ষেত পুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম আদালতে মামলা করেছে ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী। মামলার বিবরণে জানা যায় উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের দক্ষিণ রামখানা ছফরটারী এলাকার মৃত ছফর উদ্দিনের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলীর পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া বাড়ির সামনের ৬বিঘা জমি পিতার মৃত্যুর পর থেকে ভোগদখল করে আসছে। কিন্তু বাধ সাধে পার্শ্ববর্তী নজুতুল মিয়া, জাইদুল হক, নূর মোহাম্মদসহ একটি কুচক্রীমহল। প্রতিপক্ষ ওই মহল মুকিতযোদ্ধা পরিবারের আর্থিক ক্ষতি, ভিটেছাড়া ও সর্বশান্ত করার পায়তারা করে আসছিলো।
পৈতৃকসূত্রে পাওয়া ওই জমি নিয়েই দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিলো তাদের। এদিকে প্রতি মৌসুমের ন্যায় চলতি বোরো মৌসুমেও হীরা-২ ধানের চাষ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী। যা বর্তমানে থোর বের হয়ে শীষ বের হওয়ার উপক্রম। এমতাবস্থায় ৩০মার্চ মধ্যরাতে প্রতিপক্ষ মহল দলবল নিয়ে অস্ত্র-সস্ত্র, লাঠি-শোঠা, ৪-৫টি স্প্রে মেশিন, ফসল নষ্টের বিষ, পানি বালতি ইত্যাদি নিয়ে ধানক্ষেতে নেমে স্প্রে মেশিন দিয়ে অতিরিক্তহারে ক্ষেতে নষ্ট করার বিষ স্প্রে করতে থাকে। মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী তার জমি সংলগ্ন শ্যালো ম্যাশিন ঘর থেকে সন্ত্রাসীদের হাঁটাচলা ও কথাবার্তার শব্দ শুনে তম্বিত ফিরে পেয়ে টর্চের আলোয় দেখেন একটি সন্ত্রাসীচক্র ধানক্ষেতে স্প্রে মেশিন দিয়ে ক্ষেত পুড়িয়ে দিচ্ছে। কীটনাশকের দুর্গন্ধে দম বন্ধ হচ্ছিল প্রায়। পরে আসামীদের বাধাপ্রদান করলে তারা অস্ত্র নিয়ে মারধর ও প্রাণনাশর জন্য এগিয়ে আসলে প্রাণে বাঁচতে চিৎকার দিতে থাকেন। তার চিৎকার চেঁচামেচি শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে বাধাপ্রদান করলে সন্ত্রাসীক্রটি তাদেরকেও মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকী দেয় এবং অবস্থার বেগতিক দেখে সঁটকে পরেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ধানক্ষেতগুলো আগুনে পুড়ে যাওয়ার মতো হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ বীরমুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে সন্তোষপুর ইউনিয়নের পশ্চিমকুটি নাওডাঙ্গা ও দক্ষিণ রামখানা ছফরটারী এলাকার মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে নজুতুল মিয়া (৪৮), জাইদুল হক (৫২) নুর মোহাম্মদ (৩৬), নজুতুলের ছেলে আব্দুস ছালাম, (২৬), আব্দুস ছামাদ (২২), জালাল উদ্দিনের ছেলে মাসুদ রানা (২৪), মোজাম্মেল হক (২১), মৃত করিমুল্লাহর ছেলে আব্দুল খালেকসহ ৮জনকে আসামী করে ৩এপ্রিল কুড়িগ্রাম জজকোর্টে ১৪৩/৪৪৭/৪৪৭/৫০৬(২) দঃ বিঃ ধারায় একটি মামলা করেন । এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী জানায়, রাতের ঘটনার পর সকালে একটু রোদ উঠলে দেখি ধান গাছগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। পরে আমরা ফসল রক্ষার জন্য বিকল্প চেষ্টা করলেও তা রোধ হচ্ছে না। আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। স্ত্রী, সন্তান, নাতি-নাতনী নিয়ে এবার আমাকে না খেয়ে থাকতে হবে। কৃষি অফিসার মো. শামসুজ্জামান বলেন, আমাদেরকে এ ব্যাপারে কেউ অবগত করেননি।

Share Button