সাধারণ ফ্লু বা করোনা ভাইরাস জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায় উদ্ভাবন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি এবং হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ডঃ মোঃ আলিমুল ইসলাম এর নেতৃত্বে এক দল গবেষক (পিএইচডি শিক্ষার্থী ডাঃ মোঃ আসির উদ্দিন, ডাঃ মোঃ মুখলেছুর রহমান ও ডাঃ মোঃ এনামুল হক) সাধারন ফ্লু বা কোভিড-১৯ এর সাবক্লিনিকাল ক্যারিয়ারদের দ্রুত আরোগ্যের সহজ ও কার্যকরী উপায় উদ্ভাবন করেন।

আমরা জানি যে, এই সময়ে সাধারন সর্দি-জ্বর এর পাশাপাশি কোভিড-১৯ যা বিশ্বের মানুষের জন্য বড় আতঙ্কের তা দ্বারা আমাদের দেশের কিছু সংখ্যক লোক আক্রান্ত হলেও বহু লোক এখনো চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষের মত এ দেশের মানুষও আজ কোভিড-১৯ এর কাছে বড় অসহায় কারণ এর কোন সঠিক চিকিৎসা বা প্রতিরোধ ব্যবস্থা এখনো তৈরি হয়নি। ঋতু বদলের ইঙ্গিতেও সেটা বেশ স্পষ্ট টের পাওয়া যাচ্ছে| আচমকা তাপমাত্রার হেরফের হলেই সর্দি-কাশির মত একটা সমস্যায় ভুগতে আরম্ভ করছি আমরা সবাই। সর্দি-জ্বর, কাশি ও গলা ব্যথা দিয়ে রোগ শুরু হলেও কোন কোন ক্ষেত্রে তা মারাত্মক রুপ ধারণ করছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে পরবর্তী পর্যায়ে বমি, পাতলা-পায়খানা, ভীষণ শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা নিয়ে আইসিইউ তে থেকেও অনেক রোগীই মারা যাচ্ছে । এ পরিস্থিতিতে আমরা সবাই ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় দিনাতিপাত করছি।

আমাদের শরীর যখন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মিউকাস তৈরি করে, তখনই বাড়তি মিউকাস নাক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সেটাকেই আমরা বলে থাকি “নাক দিয়ে পানি পড়া’’ যা সাধারন সর্দি-জ্বরেও হয় আবার কোভিড-১৯ দ্বারা আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও তা হয়ে থাকে ।

 

প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারন সর্দি- জ্বর থেকে কোভিড-১৯ কে পার্থক্য করা বেশ কষ্টের। তাই আমরা মনে করি, রোগের প্রাথমিক স্তরে যদি নিম্নে উল্লিখিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করি তাহলে সকলেই ঐ সকল সাধারন সর্দি-জ্বর, কাশি এমনকি কোভিড-১৯ এর মত সর্দি-জ্বর ও কাশি থেকেও খারাপ পর্যায়ে যাওয়ার পূর্বেই সহজেই মুক্তি পেতে পারব ইনশাল্লাহ।

কারা এ পদ্ধতি অনুসরণ করবেন ?

জ্বর, গুরুতর গলা ব্যথা, নাক দিয়ে সর্দি পড়া, নাকে জ্বালা-পোড়া করা এবং মাথা ব্যথার রোগীরা (মৌসুমী ফ্লু বা কোভিড-১৯ এর লক্ষণগুলোর প্রাথমিক প্রকাশ) যারা সাধারন সর্দি-জ্বর/কোভিড-১৯ এর সাব-ক্লিনিকাল ক্যারিয়ার হিসাবে সন্দেহজনক অবস্থায় রয়েছেন অথচ যত্রতত্র অবাধে ঘোরাফেরা করে সাধারন ফ্লু বা কোভিড-১৯ এর ভাইরাস অনায়াসে অন্যদের মাঝে ছড়াচ্ছেন ঐ সকল ব্যক্তিগণ এবং ১২ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর ভুমিকা রাখতে পারবে।

পদ্ধতি অনুসরণের সঠিক নিয়মাবলী

১। প্রথমে একটি চায়ের কাপে অথবা একটি ছোট সাইজের প্লাস্টিক মগে ৬০ মিলি ফুটন্ত গরম পানি ঢালুন তারপর এতে অ্যাসিটোন ফ্রি খাঁটি ঘন ৪০ মিলি ইথানল (ইথাইল অ্যালকোহল ৯৯.৯%) ঢেলে ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট পর্যন্ত নাক দিয়ে ঐ বাষ্প টানতে থাকুন।

২। ইথানল বাষ্প টানার ঠিক ১০-১৫ মিনিট পর ২৫ মিলি স্বাভাবিক পানিতে ২৫ মিলি ৬০% ইথানল মিশিয়ে ৩০ সেকেন্ড কুলকুচি/গড়গড়া দিনে ৩-৪ বার করবেন। প্রতিবার স্বাভাবিক পানি দিয়ে গড়গড়া করার ৪-৫ মিনিট পর নর্মাল পানি দিয়ে হাল্কা কুলকুচি করে মুখ ধুয়ে ফেলবেন।

বি.দ্র. : ৬০% ইথানল তৈরির প্রক্রিয়া যা বাসায় বসে করতে পারেন: ১০ মিলি প্লাস্টিক সিরিঞ্জ দিয়ে অ্যাসিটোন ফ্রি খাঁটি ঘন (৯৯.৯%) ইথানল ৬ বার অর্থাৎ মোট ৬০ মিলি ১ টি মাম পানির খালি বোতলে ঢেলে নিন এর পর ১০ মিলি সিরিঞ্জ দিয়ে ৪ বার অর্থাৎ ৪০ মিলি মিনারেল ওয়াটার ঢেলে ভালোভাবে মিশিয়ে স্টক সলিউশন বানিয়ে সাধারন তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করে রাখুন। ইথানল মিশ্রিত পানি অবশ্যই শিশুদের নাগালের বাহিরে রাখুন।

৩। যদি শরীরে উচ্চ তাপমাত্রা থাকে তবে সেই ক্ষেত্রে দিনে তিনবার প্যারাসিটামল ৫০০ মিলিগ্রাম ৪-৫ দিন ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করুন।

৪। প্রতি ১/২ ঘন্টার ব্যবধানে ৩ থেকে ৪ দিনের জন্য আদা ও দারচিনি মিশ্রিত গরম পানি পান করুন।

৫। যারা অ্যাজমা/ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন তারা নেবুলাইজার(সুলপ্রেক্স)এবং অন্যান্য চলমান চিকিৎসার সাথে সাব-ক্লিনিকাল ফ্লু/কোভিড-১৯ দ্বারা আক্রান্ত হলে ইথানলে কোন এলার্জি না থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ইথানল বাষ্প ইনহেলেশন বা কুলকুচি করতে পারেন।

ইথানল বাষ্পের ইনহেলেশন এবং কুলকুচি কিভাবে আরএনএ ইনভেলপড ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করবে?

আরএনএ ভাইরাস ধ্বংসে ইথানল বাষ্প যেভাবে কাজ করবে :
আমরা জানি সাধারণ ফ্লু ভাইরাস (ইনফ্লুয়েঞ্জা গোত্রের), SARS-CoV-1, MERS-CoV এবং SARS-CoV-2(কোভিড-১৯) ছাড়াও অন্যান্য করোনা ভাইরাস যদি এরা সিঙ্গেল স্ট্রান্ডেড আরএনএ ভাইরাস হয় তাহলে এদের সকলের ইনভেলপ এও লিপিড জাতিও পদার্থ থাকবে।

ভাইরাস সমূহের ঐ সকল লিপিড ইথানল দ্বারা ট্রিটমেন্ট করলে দ্রুত ১-২ মিনিট এর মধ্যে সহজেই ভাইরাস ধ্বংস হয়ে যাবে। যার ফলে ইথানল বাষ্প ইনহেলেশন করলে শ্বাসতন্ত্রের পর্দার সঙ্গে লেগে থাকা সকল মুক্ত ভাইরাস স্বল্প সময়ের মধ্যেই ধ্বংস হবে। গবেষণায় দেখা যায়, তিন থেকে চার দিনের জন্য ইথানল বাষ্পের ইনহেলেশন এবং হালকা গরম পানি দিয়ে কুলকুচি করলে সাধারণ ফ্লু সহ শ্বাসতন্ত্রের অন্য যে কোন ইনভেলভড আরএনএ ভাইরাস ১০০% কার্যকরী ভাবে ধ্বংস হয়।

ইথানল মিশ্রিত কুসুম গরম পানির কুলকুচি যেভাবে কাজ করবে :

ইথানল একাই আরএনএ ইনভেলপড ভাইরাস সমূহের লিপিড পদার্থ সহজেই ধ্বংস করতে যথেষ্ট।

এছাড়া প্রদাহজনিত কারণে গলা ব্যথার ক্ষেত্রে উক্ত এলাকার কোষগুলি থেকে সাময়িকভাবে জলীয় পদার্থও শোষণ করবে। যার ফলে প্রদাহ কমে যাবে এবং ব্যথা দ্রুত কমাতে সাহায্য করবে। সেই ক্ষেত্রে রোগীরা ভীষণ আরাম বোধ করবে।

উল্লেখ্য যদি ১-২ দিন কুলকুচি করলেই ব্যথা চলে যায় তাহলে আর কুলকুচি করার প্রয়োজন নেই ।তবে কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে ২ দিনে ব্যথা না কমলে আরও ১-২ দিন করাই ভালো।

নয়াখবর/হাসান/এস

Share Button