করোনা যেন এক চরম দুর্ভোগ গ্রামের মানুষের কাছে!

 

[তাজওয়ার আহমেদ তনয়,হাতীবান্ধা]

করোনা যেন গ্রামের মানুষের কাছে এক দুর্ভোগের নাম। কয়েক মাস আগেও অনেকে যে সমস্যাকে মনে করেছিলেন চীনের বা ইতালির, তাঁদের ভুল প্রমাণিত করে আমাদের সবাইকে এ সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে এই ভাইরাস। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে করণীয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করছেন এবং সেই অনুযায়ী বিভিন্ন পরিকল্পনাও করছেন।

যদিও দেশে দেশে ছড়িয়ে পরছে তবে ইউরোপের শীত প্রধান দেশ গুলোতে এর প্রকোপ বেশি। প্রাশ্চাত্যের উন্নত দেশগুলো তা নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গ্রামে মাঠে চলছে কৃষকের কাজ , খেলাধুলা ও সম্মিলিত আড্ডাবাজী।তাদের চলাফেরা দেখে মনে হয় যে তাদের প্রত্যহিক জীবনে ঠিকই আছে।

কিন্তু এলাকাবাসীদের মধ্যে অনেকের নেই কোন সচেতনতা, অযথা দোকানে খোশ, গল্প এবং আড্ডাবাজী থেমে নেই। অন্যদিকে শিক্ষা – প্রতিষ্ঠানের কিশোর এবং যুবকেরা খেলা-ধুলায় নিমজ্জিত।এলাকাবাসীদের মধ্যে সচেতন নাগরিকদের দাবি যে, এ ধরনের অনিয়মের জন্য তারা প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন।

বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর কি হবে!! যে দেশে অধিকাংশ মানুষ অজ্ঞ। তাদের এই ভাইরাস থেকে রেহাই করতে হলে কি করতে হবে? বিষয়টি খুবই ভাববার আমার মনে হয়।ইতিমধ্যে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার বন্ধ ঘোষণা করেছে।বন্ধ হয়েছে সকল কর্মক্ষেত্র। ফলে গ্রামের লোকেরা পড়ছে চরম দূর্ভোগে।

সকল ছাত্রছাত্রী এখন তাদের নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে। গ্রামের মানুষ অধিকাংশ শ্রমজীবী, মেহনতি মানুষ তারা দিন আনে দিন খায়।যারা পোশাককর্মী তারা অধিকাংশরাই গ্রামে চলে এসেছে ফলে গ্রামে দেখা দিয়েছেভ খাদ্যের অভাব। তাই অধিকাংশ গ্রামের মানুষ করোনার লকডাউন কে উপেক্ষা করে কাজ করছে মাঠে-ঘাটে।

গ্রামের দরিদ্র কৃষক রহিম চাচা বলে, বাবা হামা দিন আনি দিন খাই। একদিন কাজ না করলে হামার পেটোত খাওয়া যাইবেনা।হামা করোনাক ভয় করি না। ভয় করি আমার পেটের জ্বালাক।
খাদ্যের অভাবে গ্রামে দেখা দিয়েছে চরম এক বিশৃঙ্খলা। ফলে দিন দিন বেড়ে চলেছে দূর্নীতি প্রবণতা।

এছাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ক্লিনিক গুলোতে করোনার চিকিৎসা না থাকায় সবার মাঝে দেখা দিচ্ছে এক মারাত্মক ভয়।সরকার নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য ‘ঘরে ফেরা’ কর্মসূচির কথা বলছে। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য খাদ্য সহায়তা আর নগদ অর্থ প্রদানের কথা সরকার ঘোষণা করেছে।তবুও যেন গ্রামের লোকদের ঘরে আটকে রাখা যাচ্ছে না। ক্ষুধার জ্বালায় তারা মাঠে ঘাটে নানা জায়গায় কাজ করছে।

এত সচেতনতার পরে ও ফিরছে না, কিছু নিয়ম ভংগকারী লোকদের কার্যক্রম।এলাকার সামাজিক সংগঠন গুলো সচেতনতার লিফলেট বিতরন করার পরও ফিরছে না এ মানুষ গুলো। তাই এলাকাবাসীর দাবি প্রশাসন যেন অতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করে এ ব্যাপারে।

নয়াখবর/হাসান/এস

Share Button