জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ
টানা সংকট ও দীর্ঘ ভোগান্তির পর কুড়িগ্রামের পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ধীরে ধীরে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। আগে যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক গ্রাহক তেল না পেয়ে ফিরতেন, বর্তমানে সেখানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন পাম্পে সরেজমিনে দেখা গেছে, আগের মতো দীর্ঘ যানজট ও লম্বা লাইন এখন আর নেই। এস এস ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোঃ মিজানুর রহমান জানান, আগে তেল নিতে আসা গাড়ির দীর্ঘ লাইনের কারণে তাদের হিমশিম খেতে হতো, কিন্তু এখন সেই চাপ অনেকটাই কমেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার অধিকাংশ পাম্পে নিয়মিতভাবে পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে। ফলে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং জরুরি সেবার যানবাহনের চালকদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে। বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি সেবাগুলো এখন তুলনামূলক দ্রুত জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছে।
তবে এখনও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি বলে জানিয়েছেন পাম্প মালিক ও কর্মচারীরা। তাদের মতে, চাহিদা এখনও বেশি থাকায় সরবরাহ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির দিকে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী গ্রাহকদের একাংশ দীর্ঘদিনের সংকটকে ‘কৃত্রিম’ বলে অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, একটি অসাধু চক্র পরিকল্পিতভাবে জ্বালানির সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলেছিল। অনেক ক্ষেত্রে সারারাত লাইনে থেকেও তেল না পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
একাধিক গ্রাহক জানান, আগে দিনের বেশিরভাগ সময় লাইনে কাটাতে হতো, অনেক সময় তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হতো। এখন অপেক্ষার সময় কিছুটা কমেছে, যা স্বস্তিদায়ক হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য নিয়মিত ও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরবরাহের এই ধারা বজায় থাকলে খুব দ্রুতই জেলার পেট্রোল পাম্পগুলোর পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
