মাইদুল ইসলাম মামুন:
জীবনযুদ্ধে বীরের মতো লড়াই করে যাওয়া এক মানুষ, আমিনুর ইসলাম। তার পুরো জীবনটাই ছিল এক সংগ্রামের গল্প, যে গল্পের করুণ পরিণতি ঘটল এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়।
কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের খামার আন্ধারীঝাড় নূরুরদীঘি সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। জন্মের পর থেকেই কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে বড় হওয়া আমিনুর ইসলামকে এক দম্পতি আশ্রয় দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময়। সেই দম্পতির স্নেহেই তিনি বেড়ে ওঠেন, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—বছর কয়েক আগে তাদেরও হারান তিনি।
সংসারের দায়িত্ব মাথায় তুলে নিয়ে কঠোর পরিশ্রম শুরু করেন আমিনুর ইসলাম। স্ত্রী ও চার সন্তানের জন্য তিনি দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করতেন। একমাত্র আয়ের উৎস ছিল একটি ভ্যানগাড়ি, যা নিয়ে কখনো ভাঙ্গারি ব্যবসা, কখনো ডালি-কুলা বিক্রি করতেন, আবার মৌসুমি ফল—আম, লিচু, কলা যা-ই মিলত, তাই নিয়ে বাজারে বেরিয়ে পড়তেন।
তিনি ছিলেন পরিশ্রমী, সৎ ও ধর্মপরায়ণ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করতেন, স্ত্রীকে পর্দায় রাখতেন এবং সবসময় আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখতেন। তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম ছিল হাস্যোজ্জ্বল থাকা এবং কোনো অভিযোগ না করা।
৮ মার্চ, ২০২৫—সেই কালো দিনটি যখন জয় মনিরহাট পাম্পের কাছে ঘটে এক হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনা। মুহূর্তেই নিভে যায় আমিনুর ইসলামের সংগ্রামী জীবনপ্রদীপ।
সন্তানদের শিক্ষিত করে আলোকিত মানুষ বানানোর স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু আজ তার স্ত্রী ও চার সন্তান সত্যিকারের এতিম হয়ে পড়েছে। তিনজন মাদ্রাসায় পড়ে, আর তাদের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে।
পরিবারটি এখন অসহায়, নিঃস্ব। তাদের দেখার মতো কেউ নেই, একমাত্র ভরসা আল্লাহর রহমত। এই ছোট ছোট শিশুগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে? তাদের শিক্ষার পথ কি বন্ধ হয়ে যাবে?
আমিনুর ইসলামের মতো সংগ্রামী ও সৎ মানুষের এমন করুণ পরিণতি আমাদের সমাজের বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো। এই পরিবারটি আমাদের সাহায্যের অপেক্ষায় আছে।
