হাফিজুর রহমান হৃদয়:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার মধ্য দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান নান্টু ব্যাপারীর জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা ৩ টায় নাগেশ্বরী পৌরসভার পশ্চিম সাপখাওয়া ঈদগাহ মাঠে এই জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মতিয়ার রহমান নান্টু ব্যাপারীর মরদেহ খাটিয়া জাতীয় পতাকায় ঢেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড। পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করেন থানা পুলিশ। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিব্বির আহমেদ, থানার ওসি-তদন্ত আব্দুল আলিমসহ উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। পরে জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান নান্টু ব্যাপারী পৌরসভার পশ্চিম সাপখাওয়া এলাকার মৃত খিদির মামুদ ব্যাপারীর চতুর্থ ছেলে। তিনি ১৯৫৭ সালের ২১ মে জন্মগ্রহণ করেন এবং মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ৬ নম্বর সেক্টরের আওতায় বৃহত্তর রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল ভারতের চৌধুরীরহাট ইয়ুথ ক্যাস্পে ট্রেনিং নেয়ার জন্য যোগদান করেন এবং উচ্চ পর্যায়ে ট্রেনিং নেয়ার জন্য মুজিব ক্যাম্পে গিয়ে ট্রেনিং সম্পন্ন করেন। পরে সাহেবগঞ্জ সাব-সেক্টরের আওতায় সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর নওয়াজেস এর অধীনে বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন বলে জানা গেছে।
শিক্ষা জীবনে তিনি ১৯৭৩ সালে নাগেশ্বরী ডিএম একাডেমি বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক, ১৯৭৫ সালে নাগেশ্বরী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি ও পরে বিএ পাস করেন। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৯৩ সালে নাগেশ্বরী আদর্শ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করে ২০১৮ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
এছাড়াও নাগেশ্বরী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড এর ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সাথেও জড়িত ছিলেন তিনি। ১৪ অক্টোবর, সোমবার রাত ৮ টা ৫০ মিনিটের সময় তিনি স্ট্রোক জনিত কারণে নিজ বাড়িতেই ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
