স্টাফ রিপোর্টার:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে একটি সড়ক ধ্বসে বন্ধ হয়েছে যান চলাচল। উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের একমাত্র সংযোগ স্থাপনকারী ও পাকা সড়কটির একটি অংশ ধ্বসে গেছে। এর ফলে ওই ইউনিয়নের সাথে সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া সড়কের ধ্বসে যাওয়া স্থানে থাকা বিদ্যুতের একটি খুটিও উপড়ে পড়ে গেছে। এর কারণে বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ রয়েছে একটি গ্রামে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কচাকাটা কলেজ থেকে কচাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের একমাত্র সংযোগ স্থাপনকারী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্মিত পাকা সড়কের ব্যাপারীটারী এলাকায় প্রায় ত্রিশ ফুট দৈর্ঘের সড়কের উত্তর পাশের একটি অংশ বৃষ্টির কারণে ধ্বসে গেছে। সড়কটি ধ্বসে গিয়ে গভির খালের সৃষ্টি করেছে। ১২ ফুট প্রসস্তের সড়কটির মাত্র ৩ ফুট যায়গা ধ্বসে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। ওই স্থান দিয়েমানুষ পায়ে হেটে যোগাযোগ স্থাপন করছে। বন্ধ রয়েছে রিক্সা,ইজিবাইক, ট্রলি,ট্রাকসহ ভারী যানবাহন চলাচল। এছাড়া ওই স্থানের একটি বিদ্যুতের খুটিও উপড়ে পড়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে একটি গ্রামের প্রায় ৬০টি বাড়ি।
স্থানীয়রা জানান, সড়কের পাশ ঘেষে ব্যপারীটারী ছোট ছড়ার ¯্রােত প্রবাহমান রয়েছে। গত ৪ জুন থেকে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। বৃষ্টির কারণে ¯্রােতের বেগ বেড়ে যায় এবং সড়কের পানি ওই স্থান দিয়ে নামায় সড়কটি ধ্বসে যেতে থাকে। ৬জুন পর্যন্ত সড়কটি ধ্বসতে ধ্বসতে এখন যোগাযোগ বিছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কচাকাটা কলেজের প্রভাষক হানিফ উদ্দিন যানান, অনেক দিন থেকেই সড়কটি দূর্বল হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে নিচের মাটি সড়ে গিয়েছে। এখন ভারী বৃষ্টির কারণে এই স্থানটি একেবারে ধ্বসে গিয়েছে। সড়কটি কচাকাটা ইউনিয়নের একমাত্র পাকা এবং সংযোগকারী সড়ক হওয়ায় দূর্ভোগে পড়েছে ইউনিয়নটির মানুষ।
কচাকাটার প্রধানীটারীর রফিকুল ইসলাম জানান, তিনদিন থেকে অটোরিক্সা, টেম্পুসহ যাত্রীবাহি সবযান বন্ধ রয়েছে। ফলে দূর্ভোগে পড়েছে স্থানীয়রা। এছাড়া ট্রলি কিংবা ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় কৃষিজাত পণ্য পরিবহনও বন্ধ রয়েছে।
ব্যপারীটারী এলাকার মনসুর রহমান,লিয়াকত আলী জানান সড়কের সাথে বিদ্যুতের খুটি ধ্বসে যাওয়ায় বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আমরা তিনদিন থেকে অন্ধকারে পড়ে আছি।
কচাকাটা পল্লীবিদ্যুৎ বিদ্যুত অফিস জানায়, খুটিটি পড়ে যাওয়ায় দুটি ট্রান্সফরমার বন্ধ রয়েছে। দুই একদিনের মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।
নাগেশ্বরী উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ জানায়, কচাকাটা ইউনিয়নের সাথে সংযোগ স্থাপনকারী সড়কটি ৫ দশমিক ২৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ২০০৭-৮ অর্থবছরে ২ দশমিক ৪৫০ কিলোমিটার পাকাকরণ করা হয়েছে। পাকা অংশ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পুনঃরায় মেরামত করা হয়েছে।
ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, সকটি সম্পূর্ণ ধ্বসে যাওয়ার হাত রক্ষা করতে স্থানীয়দের নিয়ে বাঁশ পুতে আবর্জণা এবং মাটি ফেলে ¯্রােতের প্রবাহ আটকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
নাগেশ্বরী উপজেলা প্রকৌশলী ওয়াসিম আতাহার জানান, সড়ক ধ্বসে যাওয়ার বিষয়টি আমাকে কেউ যানায়নি। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। সরেজমিন গিয়ে দেখে ওখানে কি ব্যবস্থা নেয়া যায় সেটা নেয়া হবে।
