৯ বারের জনপ্রতিনিধি অপরাজেয় রোস্তম আলী তোতা

হাফিজুর রহমান হৃদয়:

একজন সফল কাউন্সিলর হিসেবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ৬৬ বছর বয়সী রোস্তম আলী তোতা। এ সময়ে বয়সের ভাড়ে নুইয়ে পড়ার কথা থাকলেও এখনও উদ্যমী তরুণের মতোই মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন অবিরত। যার প্রতিদ্ব›দ্বীতায় টানা ৯ বারের নির্বাচনেও তাকে টপকে যেতে পারেনি কেউই। কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৩ নম্বর ওর্য়াডের সবার প্রিয় এই রোস্তম আলী তোতা ১৯৮১ সাল থেকে আজ অবধি তিনি মাঠ দখল করে আছেন অপরাজেয়ভাবে। গত ২৮ ডিসেম্বর ২য় ধাপের পৌর নির্বাচন নিয়ে টানা ৯ বার নির্বাচিত হলেন এই জনপ্রতিনিধি।

স্থানীয়রা জানান ১৯৭৯ সালে প্রথমবার ইউপি সদস্য পদে উপ-নির্বাচনে অংস নেন রোস্তম আলী তোতা। প্রথমবারের সেই নির্বাচনে পরাজয় বরণ করতে হয় তাকে। এই পরাজয়ই তাকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করে। শুরু হয় নতুনভাবে পথচলা। মানুষের জন্য কাজ করে ভালোবাসা অর্জন শুরু করেন।
রোস্তম আলী তোতা জানান, মুকুল ফৌজ নামে একটি শিশু সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার মাধ্যমে সকল সামাজিক কাজ করতে থাকেন প্রতিনিয়ত। সেই থেকে শিশু, নারী, পুরুষ, বৃদ্ধসহ সব বয়সী সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে গড়ে ওঠে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের। অন্তরে জায়গা করে নেন মানুষের। হয়ে ওঠেন সকলের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতীক। স্বপ্ন দেখেন আজীবন মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা করে যাবার। এই স্বপ্নকে লালন করেই ১৯৮১ সালের নির্বাচনেও অংস নেন তিনি। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এ নির্বাচনে জয়লাভ করে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। সেই থেকে মানুষের দোয়া, ভালোবাসা আর আস্থাকে বুকে ধারণ করে চলতি নির্বাচনেও একইভাবে জয়লাভ করেন তিনি। যার পোস্টারেও ছিলো না কোনো ছবি। এখানকার নয়টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৬০ জন প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র তোতার পোস্টারে প্রার্থীর ছবি নেই। ছবি নয়, নামেই পরিচয় বলে মনে করেন তিনি। ছবি বিহীন এই পোস্টারে দীর্ঘ সময় জনপ্রতিনিধি হওয়ায় অবাক গোটা কুড়িগ্রামবাসী।
বিশিষ্টজনরা মনে করছেন রোস্তম আলী তোতা সকলের আইডল। যিনি প্রতিনিয়ত শুধুমাত্র একটি বাই সাইকলে চরে ঘুরে বেড়ান তার ওয়ার্ডের এ পাড়া থেকে ও পাড়া। মানুষের বিপদে-আপদে তার পদচারণা এই বাই সাইকেলেই।

এই ওয়ার্ডের বাসিন্দা কলি রায় জানান, তোতার বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়ালে জয়লাভ তো দূরের কথা, জামানত বাঁচানো নিয়ে শঙ্কায় থাকেন প্রতিপক্ষরা। এর আগে ৬টি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে টানা জয় পেয়েছেন। কোনোবারই প্রতিপক্ষের কারও জামানত বাঁচেনি। অতীতের মতো এবারও তোতার কোনো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নেই। সৎভাবে মানুষের পাশে থাকার কারণে সবাই তাকে ভালোবাসেন বলেও জানান তিনি। স্থানীয়রা আরও জানান, ভোটাররা তাদের যেকোনো সমস্যায় রোস্তম আলীকে কাছে পায়। ভোর, সকাল কিংবা গভীর রাতে ডাকলেও তাকে পাওয়া যায়। থানাপাড়ার গৃহবধূ সবিতা রানী জানান, শিশুদের টিকা দেওয়া, জন্মনিবন্ধন, পুষ্টিভাতাসহ সব কাজই সুষ্ঠুভাবে করে দেন রোস্তম আলী। এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে কেউ কোনোদিন দুর্নীতির অভিযোগ আনেনি এবং প্রায় পাঁচ হাজার ভোটারের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সবার বাড়িতে রয়েছে তার যাতায়াত।
এ ব্যাপারে রোস্তম আলী তোতার বক্তব্য অতি সংক্ষিপ্ত-“যতদিন শরীর ভালো থাকবে, জ্ঞান থাকবে, ততদিন মানুষের পাশে থাকব”।
স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়েরোস্তম আলী তোতার সংসার। বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। অন্য দুজন স্নাতকের শিক্ষার্থী। জেলা শহরের মিস্ত্রিপাড়ায় ১২ শতক জমিতে টিনশেড বাড়ি তার।

Share Button